তীব্র মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেই ভর্তুকি কোটার বাইরের পেট্রোলের দাম দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হবে।
রবিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানান, তৃতীয় স্তরের পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার ৫ হাজার তোমান থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার তোমান করা হয়েছে। তবে মাসিক ভর্তুকি কোটায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। গাড়িচালকরা আগের মতোই প্রতি লিটার ১ হাজার ৫০০ তোমান মূল্যে ৬০ লিটার এবং ৩ হাজার তোমান মূল্যে আরও ৫০ লিটার পেট্রোল কিনতে পারবেন।
ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা এবং 'জাতীয় সক্ষমতা' বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারের মুখপাত্র। তবে দেশটি বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের বাড়তি দামের কারণে চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত আগস্টের শেষের দিকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও তখন কোনো নির্দিষ্ট তারিখ জানাননি। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে পরিবহন খরচসহ অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ। এর পাশাপাশি ইরানে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ লিটার পেট্রোলের ঘাটতি রয়েছে। সরকার জানিয়েছে, দাম বৃদ্ধির ফলে প্রাপ্ত অতিরিক্ত আয় সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করা হবে, তবে তা কীভাবে বণ্টন করা হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
ইরানে পেট্রোলের দাম অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি ইস্যু। দেশটির সংসদের অর্থনৈতিক কমিশনের সদস্য হোসেইন সামসামি সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পেট্রোলের দাম বাড়ানো 'বারুদের স্তূপে স্ফুলিঙ্গ' ফেলার সমতুল্য হতে পারে। এর আগে ২০১৯ সালের নভেম্বরে হঠাৎ করে পেট্রোলের দাম বাড়ানোর ফলে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। সে সময় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো কঠোর দমন-পীড়নে অন্তত ১ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হন বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে। জনগণের বর্তমান অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে দেশটিতে আবারও বড় ধরনের বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ইরানি কর্মকর্তারা। জনরোষ না বাড়িয়ে পেট্রোলের ব্যবহার ও সরবরাহের ঘাটতি মেটানোই এখন ইরান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল
ডিবিসি/এসভিএন