সরকার কর্তৃক একলাফে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই প্রতিবাদ জানান। সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে তিনি অবিলম্বে এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে দাম সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সম্প্রতি ঘোষিত নতুন দরে প্রতি লিটার ডিজেলে ১৫ টাকা, কেরোসিনে ১৮ টাকা, অকটেনে ২০ টাকা এবং পেট্রোলে ১৯ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। এ ধরনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনে নতুন করে চরম দুর্ভোগ ডেকে আনবে। তিনি উল্লেখ করেন, এমনিতেই নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে; এই চরম সংকটের মুহূর্তে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনগণের জন্য ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবেই দেখা দেবে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার বহুমুখী ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, তেলের দাম বাড়ার ফলে অনিবার্যভাবেই পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারের ওপর। খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের জিনিসের দাম বেড়ে গেলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আয় না বাড়লেও দৈনন্দিন ব্যয় বহুগুণে বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব মানুষের পক্ষে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়বে।
শিল্প ও কৃষি খাতের সম্ভাব্য পরিণতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের মাধ্যমেই সাধারণ ভোক্তার কাঁধে চাপবে। এতে বাজারে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র আকার ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি কৃষি খাতও বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। সেচ, পরিবহন ও কৃষি উপকরণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের উৎপাদন ব্যয় যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তাও চরম হুমকির মুখে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।
ডিবিসি/পিআরএএন