ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর যখন নানামুখী চাপ তৈরি হয়েছে, ঠিক সে সময়ে স্বস্তির খবর নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ এমটি গ্রান কুভা। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) জাহাজটি ১০ হাজার টন ডিজেল এবং ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে দেশে পৌঁছায়।
চীনের প্রতিষ্ঠান ‘ইউনিপেক’ এ বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করেছে। বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে যে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছিল, এই চালানের মাধ্যমে তা অনেকটাই কেটে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে কোনো জ্বালানিসংকট নেই। তিনি বলেন, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই ডিজেল ও জেট ফুয়েল নিয়ে জাহাজটি বন্দরে পৌঁছেছে। চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য যেকোনো সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস থেকেও তেল সংগ্রহের নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।
উল্লেখ্য, দেশের বিপুল জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বিপিসি সাধারণত জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি করে থাকে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর দেশে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল।
দেশের মোট চাহিদার ২০ শতাংশ অপরিশোধিত অবস্থায় এনে স্থানীয়ভাবে পরিশোধন করা হয় এবং বাকি ৮০ শতাংশ সরাসরি পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করা হয়। বর্তমানে ভারত, চীন ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিশ্বের মোট আটটি দেশ থেকে এই পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
ডিবিসি/এএমটি