জাতীয়

জ্বালানি সংকট উত্তরণে বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাসস

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান এবং আমদানি নির্ভরতার কারণে সৃষ্ট বর্তমান জ্বালানি সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার  (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার (সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৫) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।

 

ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের নীতির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় তৈরি করা ত্রুটিপূর্ণ পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের জ্বালানি খাতকে রীতিমতো পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল। সেই সংকট কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

 

সরকারের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার প্রধান দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ইতিমধ্যে ৩০টি কূপের খননকাজ শেষ হয়েছে, যার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে ১৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে চলমান ৭টি কূপের কাজ শেষ হলে আরও ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হবে এবং বাকি কূপগুলোর জন্য পর্যায়ক্রমে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। 

 

নতুন গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সিসমিক সার্ভে পরিচালনার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে নতুন দুটি রিগ ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর ইতোমধ্যে বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে এবং অনশোর মডেল পিএসসির অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে গভীর সমুদ্রে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং আশা করা হচ্ছে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ওই টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। 

 

আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়ানো হবে। এ ছাড়া পায়রা, মোংলা বা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে আরও এক থেকে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য মিললে তা দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন