আন্তর্জাতিক, এশিয়া

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কয়লানির্ভরতা বাড়াচ্ছে জাপান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পথে হাঁটছে জাপান। পরিস্থিতি সামাল দিতে এরই মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। শুক্রবার (২৭ মার্চ) জাপানের শিল্প মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা তাকাহিদে সোয়েদা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে দেশটির জিজি প্রেসসহ একাধিক স্থানীয় গণমাধ্যম নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করেছিল। সোয়েদা জানিয়েছেন, সরকারের এ পরিকল্পনাটি শুক্রবারই একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেলের বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হবে।

 

নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে জাপানের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এর আগে জলবায়ু নীতিমালার আওতায় উচ্চমাত্রার কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণকারী পুরোনো ও কম দক্ষ কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কড়া নির্দেশনা ছিল। তবে পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সেই অবস্থান থেকে সাময়িক সরে আসছে টোকিও। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন অর্থবছর থেকে অন্তত এক বছরের জন্য এ পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে।

 

জাপানের এ পদক্ষেপ মূলত বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক সংকটেরই একটি সরাসরি প্রতিক্রিয়া। গত মাসের শেষের দিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে বন্ধ করে দেয়। এর ফলে এশিয়ার অনেক দেশই তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়ে এবং নিজেদের অর্থনীতি সচল রাখতে বিকল্প হিসেবে কয়লার দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হয়। 

 

জাপানের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়াও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সীমা তুলে নেওয়ার পাশাপাশি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে, গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিদ্যুতের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কয়লানির্ভরতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ফিলিপাইনও।

 

উল্লেখ্য, জাপানের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে মেটানো হয়, যার অন্যতম প্রধান জ্বালানি হলো কয়লা। দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদ ও জ্বালানি সংস্থার তথ্যমতে, জাপান তার প্রয়োজনীয় কয়লার প্রায় ৮০ শতাংশই অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করে থাকে। কিন্তু তেল আমদানির ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন; জাপানের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। তাই হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে তেল সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই সংকট সামাল দিতে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) জাপান সরকার তাদের কৌশলগত মজুত থেকে আরও এক দফা তেল ছাড় করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দিয়েছে।

 

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন