মাগুরার সদর উপজেলায় প্রায় দুই মাস আগে পিতার মাধ্যমে বিক্রি হয়ে যাওয়া এক নবজাতক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিশুটির পিতা মো. সাগর হোসেন (৩৪) স্ত্রী তানজিলা খাতুনের অজান্তে গত ২৭ মে মাগুরার দক্ষিণ বীরপুর এলাকার শাহাবুর ও মনিরা খাতুন দম্পতির কাছে দত্তকের নামে ২৫ হাজার টাকার চুক্তিতে নবজাতক কন্যাশিশুটিকে হস্তান্তর করেন।
সন্তানকে না পেয়ে মা তানজিলা খাতুন যখন খুঁজতে থাকেন, তখন তাকে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়। এমনকি শিশুটিকে ‘জ্বিনে নিয়ে গেছে’ বলেও বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করা হয়। দীর্ঘদিন সন্তানের কোনো খোঁজ না পেয়ে অবশেষে তিনি পুলিশের কাছে যান।
ঘটনাটি জানাজানি হলে মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনের নির্দেশনায় শত্রুজিৎপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই শুভংকর রায় দ্রুত তদন্ত শুরু করেন। তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে শাহাবুর-মনিরা দম্পতির কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে নবজাতককে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দীর্ঘদিন পর সন্তানকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মা তানজিলা খাতুন। মাগুরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার রাতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, আমার দুটি সন্তানের পর এই কন্যাশিশুটির জন্ম হয়। কিন্তু জন্মের কিছুদিন পরই সে হারিয়ে যায়। আমি আগে থেকেই অসুস্থ ছিলাম। শিশুটি কোথায় গেছে জানতে না পেরে পুলিশের কাছে অভিযোগ করি। পরে জানতে পারি, বাচ্চার বাবাই তাকে অর্থের লোভের কারণে বিক্রি করে দিয়েছিল, যা আমার কাছে গোপন করা হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির পিতা মো. সাগর হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এরপর শিশুটিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে শিশুটির বাবার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মানবাধিকার রক্ষা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অপরাধ দমনে মাগুরা জেলা পুলিশ সবসময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে যাবে।
ডিবিসি/এসএফএল