গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনে পুলিশি ছত্রচ্ছায়ায় অপরাধ চক্র পরিচালনা, ছিনতাইকারী ভাড়া করে যাত্রী হয়রানি, মাদক কারবার এবং অবৈধ মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগে এ পর্যন্ত চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঢাকা রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার নিকুলিন চাকমা স্বাক্ষরিত পৃথক দাপ্তরিক আদেশে অভিযুক্তদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
প্রত্যাহারকৃত পুলিশ সদস্যরা হলেন- জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কাইয়ুম আলী, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. রমিজুল হক, কনস্টেবল মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির এবং কনস্টেবল মো. মাসুদ রানা।
তবে চারজনকে প্রত্যাহার করা হলেও রহস্যজনকভাবে এই সিন্ডিকেটের বাকি দুই সদস্য- কনস্টেবল মো. হাসান রহমান এবং কনস্টেবল মবিদুলের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী রেলযাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। তারা বাকিদেরও দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত এই পুলিশ সদস্যরা জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী অপরাধ চক্র গড়ে তুলেছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা ছিনতাইকারী ভাড়া করে সাধারণ যাত্রীদের ভয় দেখিয়ে সর্বস্ব লুটে নিতেন। এ ছাড়া জংশন এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও মদদ দেওয়া এবং আশপাশের অবৈধ হকার ও দোকানপাট থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের মাসোয়ারা বা চাঁদা আদায়ের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। যদিও দাপ্তরিক আদেশে এই বদলিকে প্রশাসনিক কারণ বা জনস্বার্থ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রেলওয়ে পুলিশের এই পদক্ষেপকে স্থানীয়রা প্রাথমিক স্বস্তি হিসেবে দেখলেও সচেতন মহলের দাবি- কেবল প্রত্যাহার বা বদলিই যথেষ্ট নয়। অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনা করে এই চক্রের প্রতিটি সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত সাপেক্ষে নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ এমন অপকর্মে লিপ্ত হতে সাহস না পায়।
ঢাকা রেলওয়ে জেলা পুলিশ সুপার নিকুলিন চাকমা ডিবিসি নিউজকে জানান, আমার কাছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। আমি অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে তাদেরকে প্রত্যাহার করেছি। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান।
ডিবিসি/এসএফএল