বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

জয়পুরহাটে তুলসীগঙ্গার তীরে ২০০ বছরের পুরোনো ‘ঘুড়ির মেলা’

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার তুলসীগঙ্গা নদীর তীরে সন্ন্যাসতলা মন্দিরের পাশে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ির মেলা। গ্রামীণ এই মেলাটি স্থানীয়ভাবে সন্ন্যাসতলীর ঘুড়ির মেলা হিসেবে পরিচিত।

মেলার সঠিক ইতিহাস কেউ নিশ্চিত করে বলতে না পারলেও জনশ্রুতি রয়েছে, সন্ন্যাসী পূজাকে কেন্দ্র করে ২০০ বছরেরও বেশি সময় আগে এই মেলার সূচনা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছরের মতো এবারও মধুমাস জ্যৈষ্ঠের শেষে শুক্র ও শনিবার এই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।


ঐতিহ্যবাহী এই মেলাকে কেন্দ্র করে পুরো মেলাপ্রাঙ্গণ সব ধর্মের মানুষের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। মেলার সময় যত ঘনিয়ে আসে, পুরো উপজেলাজুড়ে ততই উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শুক্র ও শনিবার দুই দিনব্যাপী এই মেলায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাজারো মানুষের সমাগমে মুখরিত থাকে মেলাপ্রাঙ্গণ।


এই মেলাকে ঘিরে প্রতিবছর আশপাশের প্রায় অর্ধশত গ্রামে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। প্রতিটি বাড়িতে জামাই-ঝিসহ দূর-দূরান্তের আত্মীয়-স্বজনদের আগমন ঘটে। মেলা শুরুর এক দিন আগে থেকেই দোকানিরা তাদের পসরা সাজিয়ে বসেন। এবারও নদীর তীরঘেঁষে প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসেছে হরেক রকমের ঘুড়ি, মৌসুমি ফলমূল ও মিষ্টির দোকান।


মেলাটির প্রধান আকর্ষণ হলো হরেক রকমের ও রঙের ঘুড়ি। এর পাশাপাশি গ্রামীণ ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে অল্প মূল্যের বাঁশের তৈরি রঙিন ডালা-কুলা, চাঙ্গারি, হাতপাখা, মাছ শিকারের খৈলশানিসহ দেশীয় বিভিন্ন গৃহস্থালি তৈজসপত্র বিক্রি হচ্ছে। নানা বয়সের এবং সব ধর্মের হাজারো নারী-পুরুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো মেলাপ্রাঙ্গণ যেন এক আনন্দ মোহনায় পরিণত হয়েছে।


ক্ষেতলাল উপজেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে মামুদপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর-জিয়াপুর গ্রামের তুলসীগঙ্গা নদীর কোলঘেঁষে এই মেলা বসে। মেলার দ্বিতীয় ও শেষ দিন শনিবার কেনাকাটার জন্য নারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শনিবার সকালে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীরা মেলায় এসে সন্ন্যাস ঠাকুরের পূজা-অর্চনা করেন। অন্যদিকে, মেলা প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের সুবিশাল এলাকাজুড়ে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধদের ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব চলে।


কোনো আনুষ্ঠানিক পুরস্কারের আয়োজন না থাকলেও সবাই মনের আনন্দে এই ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। কার ঘুড়ি কত উঁচুতে উড়তে পারে এবং কে কার ঘুড়ির সুতা কেটে দিতে পারে-দিনভর চলে সেই চিরচেনা আনন্দ-লড়াই।


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন