জেলার সংবাদ

ঝিনাইদহে ওসির সামনে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে থানার সামনে শাহরিয়ার আলম সোহাগ ও মিশন আলী নামের দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থলে কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। আহত দুই সাংবাদিককে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

হামলার শিকার দুই সাংবাদিক হলেন- দীপ্ত টিভির ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি ও দৈনিক যুগান্তর-এর কালীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি শাহরিয়ার আলম সোহাগ এবং নাগরিক টিভির জেলা প্রতিনিধি মিশন আলী। অভিযোগ রয়েছে, কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন ও তার সঙ্গীয় ফোর্সের সামনেই এই হামলার ঘটনা ঘটে।

 

ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে সাংবাদিক মিশন আলী জানান, তিন দিন আগে শহরের আড়পাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মিলন হোসেন নামে এক যুবককে মারধর করে অজ্ঞাত কয়েকজন। ওই ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে আড়পাড়া এলাকার মিঠু ও ইয়াসিন নামের দুই যুবককে ধরে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। এরপর রাত সাড়ে ৮টার দিকে এলাকাবাসী পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে থানায় আসেন। মিশন আলীর অভিযোগ, এ সময় ওসি জেল্লাল হোসেন কৃষক দলের বহিষ্কৃত নেতা জালাল উদ্দিন ও শাহীন লস্করকে ফোন করে থানায় ডেকে আনেন।

 

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে রাত ৯টার দিকে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তারা দুই সাংবাদিক থানার সামনে যান। সে সময় যুবদল ও কৃষক দলের কয়েকজন নেতা-কর্মী থানায় আসা নারীদের ওপর চড়াও হন। ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে উপজেলা কৃষক দলের এক নেতা প্রথমে বাধা দেন এবং একপর্যায়ে জালাল তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান।

 

হামলার বিষয়ে অপর ভুক্তভোগী সাংবাদিক শাহরিয়ার আলম সোহাগ বলেন, ‘কয়েক দিন আগে ওসির মাদক-বাণিজ্য এবং আসামির মোবাইল গায়েব করা নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল। মূলত ওই ঘটনার জের ধরেই ওসি তাঁর পালিত রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের দিয়ে পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের ওপর এই হামলা চালিয়েছেন।’

 

তবে হামলার অভিযোগ ও পূর্বশত্রুতার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘পৌর এলাকার আড়পাড়া গ্রাম থেকে মাদক মামলার আসামিকে আটক করে থানায় আনা হয়েছিল। খবর পেয়ে ওই গ্রামের নারী-পুরুষরা থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ডেকে গ্রামবাসীদের বুঝিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করি।’

 

সাংবাদিকদের সঙ্গে হাতাহাতির বিষয়ে ওসি বলেন, ‘ওই সময় সাংবাদিকরা ভিডিও করতে গেলে বিএনপি নেতারা বাধা দেন, ফলে সেখানে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি দেখতে পেয়ে আমি বিএনপি নেতা-কর্মীদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দিই এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করি। মোবাইল গায়েব সংক্রান্ত পূর্বের কোনো ঘটনার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।’

 

ডিবিসি/এসএস

আরও পড়ুন