বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

ঝিনাইদহে কুলখানি নিয়ে বিরোধে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচা খুন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

শনিবার ২৯শে নভেম্বর ২০২৫ ০৪:৫৬:৩১ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ঝিনাইদহ শহরে বাবার মৃত্যুর পর কুলখানি বা ফাতেহা পাঠ না করে মিলাদ মাহফিল আয়োজন করা নিয়ে সৃষ্ট পারিবারিক বিরোধের জেরে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন চাচা। নিহতের নাম মুরাদ মন্ডল (৩৭)। তিনি পেশায় একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এবং স্থানীয় যুবদলের কর্মী ছিলেন। শনিবার দুপুরে শহরের পবহাটি সিটি মোড় এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত মুরাদ ওই এলাকার মৃত আফজাল মন্ডলের ছেলে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ভাতিজা সৌরভ মন্ডল পলাতক রয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাত্র এক সপ্তাহ আগে মুরাদ মন্ডলের পিতা আফজাল মন্ডল ইন্তেকাল করেন। শুক্রবার মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। তবে মুরাদের চাচাতো ভাই আলম মন্ডল বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলেন এবং কটাক্ষ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন ফাতেহা বা কুলখানি না করে শুধু মিলাদ করা হলো। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, প্রয়োজনে ভিক্ষা করে হলেও বাবার কুলখানি করা উচিত ছিল। এই মন্তব্যের জেরে দুই ভাইয়ের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয় এবং একপর্যায়ে মুরাদ ক্ষিপ্ত হয়ে তার চাচাতো ভাই আলমকে থাপ্পড় মারেন। এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই আলমের ছেলে সৌরভ মন্ডল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং চাচাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

 

শুক্রবার রাত থেকেই চাচা মুরাদকে খুঁজছিল ভাতিজা সৌরভ। অবশেষে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে মুরাদ যখন পবহাটি সিটি মোড়ে তার স্ত্রীর বড় ভাইয়ের সিমেন্টের দোকানে বসেছিলেন, তখন সৌরভ ৯-১০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল নিয়ে সেখানে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে এসে ওই দোকানে হানা দেয় এবং মুরাদের মাথায় ও পেটে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও ছুরি ঢুকিয়ে গুরুতর জখম করে। মুরাদের চিৎকারে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা তিনটি মোটরসাইকেল ঘটনাস্থলে ফেলে পালিয়ে যায়।

 

গুরুতর আহত অবস্থায় মুরাদকে উদ্ধার করে দ্রুত ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি (অপারেশন) সামছুজ্জোহা জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে পারিবারিক তুচ্ছ বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সৌরভ ও অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

ডিবিসি/এমএআর

আরও পড়ুন