ঝিনাইদহ সদরের গোয়ালপাড়া বাজার এলাকায় নেশা করতে বাধা দেওয়া এবং পারিবারিক কলহে প্রতিবাদ করায় পূর্ববিরদের জেরে আবু সোমা (৩৬) নামের এক কৃষককে কুপিয়ে এক পা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এ সময় তার অপর পায়েও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। তিনি ওই গ্রামের আবু কাশেম মোল্লার ছেলে। সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ উঠেছে, পারিবারিক কলহ ও নেশা করতে বাধা দেওয়ায় তার চাচাতো ভাই মামুন মোল্লা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক রয়েছে।
তবে মামুন মোল্লা স্থানীয় গোয়ালপাড়া বাজারের একটি দোকানে চুরির মামলায় কিছুদিন আগে গ্রেপ্তার হয়েছিল বলেও নিশ্চিত করেছে পুলিশ। যদিও তার বিরুদ্ধে ঠিক কয়টি মামলা রয়েছে, তা জানা যায়নি।
জানা যায়, আবু সোমার ছেলে বাড়ির পার্শ্ববর্তী গোয়ালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে খেলছিল। মাঠের কাজ থেকে ফিরে সন্ধ্যায় ছেলেকে ডাকতে স্কুলে যাচ্ছিলেন আবু সোমা। পথিমধ্যে স্কুলের কাছাকাছি পৌঁছালে আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা তার চাচাতো ভাই মামুন মোল্লা ধারালো অস্ত্র (রামদা) দিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে। এ সময় স্থানীয়রা ছুটে এলে মামুন পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহতের স্ত্রী বিউটি খাতুন বলেন, মামুন সম্পর্কে আমার স্বামীর চাচাতো ভাই। সে প্রায়ই নেশা করত এবং তার স্ত্রীকে মারধর ও বাকবিতণ্ডায় জড়াত। এসব কাজে আমার স্বামীসহ পরিবারের অন্যরা বাধা দিত। এতে ক্ষিপ্ত হয়েই সে আবু সোমাকে কুপিয়েছে। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। সে আমার স্বামীর এত বড় ক্ষতি করল।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফারিহা তাহসিন বলেন, আহতের শরীর থেকে ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বাম পায়েও কয়েকটি ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আবু সোমাকে ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদউজ্জামান জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত মামুন মোল্লা নেশা করত এবং পূর্বে বাজারের দোকানে চুরির মামলায় গ্রেপ্তারও হয়েছিল। ঘটনার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।
ডিবিসি/এসডব্লিউএন