কিশোরগঞ্জের ইটনায় হাওরের চরে আটকে থাকা সিমেন্টবোঝাই একটি বাল্কহেডে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাতরা বাল্কহেডের ইঞ্জিন খুলে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ৫০ লিটার ডিজেল, সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, গ্যাস সিলিন্ডার, তিনটি মোবাইল ফোন, ৬০ বস্তা সিমেন্ট ও নগদ ১০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার এলংজুরী ইউনিয়নের ইসলামপুর-গাজীপুরের সামনের হাওরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে ইটনা থানা পুলিশের একটি দল।
জে আই ইমপ্যাক্ট লিমিটেডের সিনিয়র সেলস এক্সিকিউটিভ অফিসার বিএম কামরুজ্জামান জানান, সোমবার সকালে সিলেটের ছাতক সুপারক্রিট সিমেন্ট ফ্যাক্টরি থেকে একটি বাল্কহেডে ২ হাজার বস্তা সিমেন্ট নিয়ে ইটনা বাজারের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। পরে জয়সিদ্দি বাজারের এক ব্যবসায়ী জরুরি ভিত্তিতে তার অর্ডার করা ৫০০ বস্তা সিমেন্ট আগে দেওয়ার অনুরোধ করেন। এ কারণে সিমেন্ট নিয়ে বাল্কহেডটি জয়সিদ্দির উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
পথে এলংজুরী ইউনিয়নের ইসলামপুর-গাজীপুরের সামনে পানি কম থাকায় একটি চরে বাল্কহেডটি আটকে যায়। লোকবল সংকটের কারণে রাতের মধ্যে সেটি আর ছাড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে মাঝি, ইঞ্জিনচালকসহ সংশ্লিষ্টরা বাল্কহেডেই রাতযাপন করেন।
বাল্কহেডের মাঝি সৈয়দুল ইসলাম বলেন, রাত আনুমানিক ২টার দিকে ৮ থেকে ১০ জনের একটি ডাকাত দল বাল্কহেডে উঠে মাঝি, ইঞ্জিনচালকসহ অন্যদের ওপর হামলা চালায়। পরে তারা হাতের কাছে থাকা সবকিছু বের করে দিতে বলে। একপর্যায়ে ডাকাতরা বাল্কহেডের একটি ইঞ্জিন খুলে নিয়ে যায়। পাশাপাশি তারা ৫০ লিটার ডিজেল, সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, গ্যাস সিলিন্ডার, তিনটি মোবাইল ফোন, ৬০ বস্তা সিমেন্ট ও নগদ ১০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। ইঞ্জিন কেন নিয়ে গেল এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ডাকাতেরা তাদের টার্গেট অনুযায়ী নগদ টাকা বা জিনিসপত্র না পেয়েই বাল্কহেডের ইঞ্জিনটা খুলে নিয়ে গেছে।
জয়সিদ্দি বাজারের ব্যবসায়ী মিয়া হোসেন বলেন, পানি কম থাকায় সিমেন্টবোঝাই বাল্কহেডটি রাতে চরে আটকে যায়। রাত হয়ে যাওয়ায় সেটি আর ছাড়ানো সম্ভব হয়নি। সকালে লোকজন নিয়ে ছোট নৌকায় সিমেন্ট আনলোড করে বাল্কহেডটি ছাড়িয়ে আনার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে ডাকাতির খবর পান।
তিনি বলেন, ‘নৌকা-লঞ্চে ডাকাতির কথা অনেক শুনেছি। কিন্তু এভাবে বাল্কহেডের ইঞ্জিন খুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা আগে কখনো শুনিনি বা দেখিনি।’
ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ খান জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় এসেছেন। মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে নৌযানে একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর আগে গত ৭ জুলাই রাত ১০টার দিকে ১৫ দিনের এক শিশুর মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে করিমগঞ্জ উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের নোয়াগাঁও স্লুইসগেট এলাকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
লাশবাহী নৌকায় ডাকাতির ঘটনার মাত্র একদিন পর, ৮ জুলাই সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে মিঠামইন উপজেলার গোপদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের সামনের হাওরে ডাকাতির শিকার হন তিন গরু ব্যবসায়ী। সেদিন তাদের সাথে থাকা গরু বিক্রির সাড়ে ৪ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে ডাকাতদল।
একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের বর্শিকুড়া-শেরপুর সেতুসংলগ্ন বগাডুবি খালেও আরেকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
এর আগে ৭ জুন রাতে মিঠামইন-করিমগঞ্জ সীমান্তবর্তী হাসানপুর ব্রিজ এলাকায় পর্যটকবাহী একটি ট্রলারে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীরা জানান, প্রায় ৪০ জন পর্যটক হাওর ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ডাকাতদল ট্রলারে উঠে সবাইকে জিম্মি করে। তিনি বলেন, ডাকাতরা নারী যাত্রীদেরও মারধর ও হেনস্তা করে। পরে মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
ডিবিসি/এসডব্লিউএন