টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় কবরস্থানের জমির সীমানা ও মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে নাইম হোসেন নামের এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের রামদেবপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত নাইম ওই গ্রামের ওসমান আলীর ছেলে এবং স্থানীয় হাতিয়া কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামদেবপুর গ্রামের একটি কবরস্থানের জমি নিয়ে গত প্রায় আড়াই মাস ধরে স্থানীয় ‘কমিটি সওদাগর’ গ্রুপের সাথে ‘মন্ডল ও সিকদার’ গ্রুপের তীব্র বিরোধ চলে আসছিল। এই দ্বন্দ্বের জেরে এর আগেও এলাকায় একাধিকবার ঝগড়া ও হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। এমনকি বিরোধ এতোটাই চরমে পৌঁছায় যে, গত ঈদে দুই পক্ষ আলাদাভাবে ঈদের নামাজও আদায় করে।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে পুনরায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বুধবার সকালে কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে নাইমসহ অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হন। মুমূর্ষু অবস্থায় নাইমকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
সার্বিক বিষয়ে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌফিক আজম জানান, কবরস্থানের জমি নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ডিবিসি/পিআরএএন