বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

টাঙ্গাইলে এসআইয়ের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

সিনিয়র রিপোর্টার, টাঙ্গাইল

ডিবিসি নিউজ

শনিবার ১৮ই অক্টোবর ২০২৫ ০৬:৪৬:১১ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

টাঙ্গাইলে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে জোরপূর্বক টাকা আদায় এবং সেই টাকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অসংখ্য ভুক্তভোগীর মধ্যে টাঙ্গাইলের কালিহাতীর এক সিএনজি চালক ও তার পরিবার এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হলেও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার শঙ্কায় মুখ খুলতে চাননি।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৯ই সেপ্টেম্বর। সেদিন সন্ধ্যায় দেউপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের হাফেজ জোনায়েদ আল হাবিব যমুনা সেতু সংযোগ সড়কে একটি ট্রাকের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে পরে হাসপাতালে মারা যান। নিহতের পরিবার এ ঘটনায় ট্রাক বা সিএনজি চালক কারও বিরুদ্ধেই কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।

 

নিহতের ভাইয়ের দাবি, 'জানাযায় ট্রাকটির মালিকপক্ষ উপস্থিত থেকে ক্ষতিপূরণ দিতে চাইলেও আমরা তা নেইনি এবং থানায় কোনো অভিযোগ করিনি। এরপরও পুলিশ ট্রাকের মালিকের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে চাপ দিচ্ছে বলে আমরা শুনেছি। শুধু তাই নয়, ওই ঘটনায় সিএনজি চালকের কোনো দায় না থাকলেও তার কাছ থেকে পুলিশ দুই দফায় ৬৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছে!'

 

ভুক্তভোগী সিএনজি চালক, তার পরিবার ও এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, হাবিবের মৃত্যুর তিন দিন পর ১২ই সেপ্টেম্বর রাতে যমুনা সেতু পূর্ব থানার এসআই রাসেল মিয়া আরও দুই পুলিশ সদস্যসহ ওই চালকের বাড়িতে উপস্থিত হন। তারা সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারার ভয় দেখিয়ে চরম হুমকি, গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টা করেন।

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, 'রাতে এসআই রাসেল আমাকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যায়। এসময় তিনি চালককে বের করে দেওয়ার জন্য নারী সদস্যদেরও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে নিরুপায় হয়েই আমরা পুলিশের সাথে ৭০ হাজার টাকায় চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছি।'

 

তিনি জানান, পুলিশ প্রথমে নগদ ২৫ হাজার টাকাসহ অটোরিকশাটি থানায় নিয়ে যায়। পরের রাতে চালকের বাবা ও স্থানীয় একজন থানায় উপস্থিত হয়ে বাকি ৪৫ হাজার টাকা জমা দিলে, এসআই রাসেল ৫ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে অটোরিকশাটি ছাড়েন। ওই ইউপি সদস্য আরও বলেন, 'হাসিনার আমলের থেকেও পুলিশ এখন আরও বেশি বেপরোয়া। সাধারণ মানুষ এখন পুলিশের কাছে আগের চেয়েও বেশি জিম্মি।'

 

অভিযোগের বিষয়ে যমুনা সেতু পূর্ব থানায় কর্মরত এসআই রাসেল মিয়া প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে অকপটে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, 'এটি কোন ঘটনা না। পাঁচটি কাজ করলে একটি ফেটে যাবে। এই টাকার মাত্র ৮ হাজার টাকা পেয়েছি আমি। বাকি সব টাকা ওসি স্যার, সোর্স আর ফোর্সরা পেয়েছেন।' তিনি আরও বলেন, 'ওসি স্যার বদলি হয়ে গেছেন, আর অন্যরা এখন দায় নিবে না। যেহেতু বিষয়টি আলোচনায় চলে এসেছে তাই তার টাকা এখন আমাকেই ফেরত দিতে হবে। বিষয়টি সমাধানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।'

 

তবে, যমুনা সেতু পূর্ব থানার তৎকালীন ওসি ও বর্তমানে শরীয়তপুরের সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফয়েজ আহম্মেদ দাবি করেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তার রুমে কাউকে নেওয়া হয়নি এবং টাকার বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেছেন।

 

যমুনা সেতু পূর্ব থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শবজেল বলেন, 'নতুন যোগদান করেছি তাই এবিষয়ে অবগত নই।'

 

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রবিউল ইসলাম জানান, পুলিশের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

 

এর আগেও এসআই রাসেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। গত ২৬শে আগস্ট গোপালপুর থানায় কর্মরত থাকাকালীন তিনি আলমনগর ইউনিয়ন যুবদলের এক সদস্য সচিবকে বিনাদোষে থাপ্পড় দিয়ে কানে গুরুতর আহত করার অপরাধে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত হয়েছিলেন।

 

এদিকে, পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, অপমৃত্যুর ঘটনায় অর্থ বাণিজ্য, মাদক বাণিজ্য এবং নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে জোরপূর্বক টাকা আদায়সহ নানা অপরাধে এই উপজেলার ওসিসহ একাধিক পুলিশকে সম্প্রতি প্রত্যাহার করা হয়েছে। সূত্রটির মতে, প্রতিটি থানাতেই পুলিশের এমন অপরাধ দিন দিন বাড়ছে, যার তালিকার শীর্ষে মধুপুর থানা ও টাঙ্গাইল সদর থানা।

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন