বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে কৃষকদের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দিয়ে টাঙ্গাইলে দেশব্যাপী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করেন তিনি। এসময় সবাইকে একটি করে গাছের চারাও উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী।
কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে দেশের ১১টি কৃষি ব্লকে এই কর্মসূচির প্রাক-পাইলটিং পর্যায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই ধাপে ২০ হাজার ৬৭১ জন ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক ‘কৃষক কার্ড’ পাচ্ছেন। এই কার্ডের মাধ্যমে কার্ডধারী কৃষকরা বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ আর্থিক সুবিধা লাভ করবেন। কৃষিমন্ত্রী জানান, এই কার্ড ব্যবহার করে কৃষকরা বিভিন্ন প্রণোদনা ও সরকারি সেবা গ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ডিলারের সরবরাহ করা মেশিনের মাধ্যমে খুব সহজেই সার, বীজ, মৎস্য বা প্রাণিখাদ্যসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ কিনতে পারবেন।
টাঙ্গাইলের পাশাপাশি এদিন দেশের আরও নয়টি স্থানে একযোগে প্রাক-পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে পঞ্চগড় সদরের কমলাপুর, বোদা উপজেলার পাঁচপি, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার কৃপালপুর, পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার রাজাবাড়ি, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপচা, মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা এবং জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা। এছাড়া আগামী ১৭ এপ্রিল কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার অরণ্যপুরেও কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে।
এই প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকারের মোট ব্যয় হচ্ছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রাক-পাইলটিং ধাপ শেষ হওয়ার পর দেশের ১৫টি উপজেলায় মূল পাইলট কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, পাইলটিংয়ের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে আগামী চার বছরের মধ্যে সারা দেশে পর্যায়ক্রমে এই কার্ড বিতরণ এবং কৃষকদের একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। দেশের সব কৃষককেই পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে, তবে নগদ আর্থিক সুবিধা পাবেন কেবল ভূমিহীন, প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষকরাই।
ডিবিসি/পিআরএএন