বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

টাঙ্গাইল মহাসড়কে ২১ কিলোমিটার যানজট, ভোগান্তিতে ঘরমুখো মানুষ

গাজীপু‌র প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনে বৃষ্টির বাগড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীরা। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও ঘরমুখী মানুষের ঢলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক এবং চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের ২১ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীরা।

বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পকারখানা ছুটি হওয়ার পর থেকেই ঘরমুখী মানুষের ঢল নামে সড়কে। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই নাড়ির টানে বাড়ির পথে রওনা হন পোশাকশ্রমিকসহ সাধারণ কর্মজীবীরা।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় বৃষ্টির মধ্যেই হাজার হাজার যাত্রী গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। উত্তরবঙ্গের ২৬ জেলার প্রবেশদ্বার এই এলাকায় ছোট-বড় যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় যানচলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। মহাসড়কের চন্দ্রা ও খাড়াজোড়া থেকে কোনাবাড়ী উড়ালসড়ক পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার এবং চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের ৬ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে স্থবিরতা বিরাজ করছে। অনেক স্থানে যানবাহন দীর্ঘ সময় ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকছে।

 

দূরপাল্লার বাসের যাত্রী আল মাহাদী বলেন, "বৃষ্টির মধ্যে বাড়তি ভাড়া দিয়ে গাড়িতে উঠেছি। এক ঘণ্টায় গাড়ি মাত্র এক কিলোমিটার এগিয়েছে। ৬ ঘণ্টার পথ ১২ ঘণ্টায়ও শেষ হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।"

 

সোহান ট্রাভেলসের চালক মাহতাবুর রহমান বলেন, "বৃষ্টি নামার সঙ্গে সঙ্গে যানজট তীব্র হয়েছে। সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে যানজট আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।"

 

এদিকে যাত্রীদের অভিযোগ, বৃষ্টির সুযোগে পরিবহন মালিকরা কয়েক গুণ ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। যাত্রী আতাউর রহমান বলেন, "বৃষ্টিতে ভিজে গাড়ির অপেক্ষায় আছি, কিন্তু যানজটের কারণে গাড়ি আসছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোনো তদারকি নজরে পড়ছে না।"

 

যানজটের বিষয়ে জানতে নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাত হোসেনের (সাউগাতুল আলম) মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। মহাসড়কের কয়েকটি পয়েন্টে হাইওয়ে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও যানজট নিরসনে তাদের বিশেষ কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। চন্দ্রা পুলিশ কন্ট্রোল রুমের পাশে পুলিশ সদস্যদের বসে থাকতে দেখা গেলেও সড়কে তাদের উপস্থিতি ছিল নগণ্য।

 

 

আরও পড়ুন