শ্রমিক ও কর্মচারীদের কর্মবিরতির জেরে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে এই আন্দোলন এখন অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে রূপ নিয়েছে।
আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নিয়ে টানা পঞ্চম দিনের মতো কর্মসূচি অব্যাহত থাকায় কন্টেইনার হ্যান্ডলিংসহ সব ধরনের কাজ বন্ধ রয়েছে। আরে এতেে পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন সামনে রেখে রমজানের পণ্য আগেভাগেই নিয়ে এসেছিলেন আমদানিকারকরা। কিন্তু বন্দরের অচলাবস্থার কারণে পরিকল্পনা অনুযায়ী সেসব পণ্য খালাস করা যাচ্ছে না। বর্তমানে গভীর সাগরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় ভাসছে ১৪০টিরও অধিক জাহাজ। এর ৩৫টি জাহাজে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের খাদ্যপণ্য।
এদিকে টানা পাঁচদিনের এই কর্মসূচির ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ। প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এতে প্রায় ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে সরকার।
বন্দরের এই অচলাবস্থার প্রভাব পড়েছে বেসরকারি ডিপোগুলোতেও। বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোস এসোসিয়েশন (বিকডা)-এর তথ্যমতে, ২১টি বেসরকারি ডিপোতে আটকে আছে আট হাজারের বেশি রপ্তানি কন্টেইনার। স্বাভাবিক সময়ে ডিপো থেকে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৮০০ রপ্তানি কন্টেইনার বন্দরে পাঠানো হলেও, বর্তমানে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। অন্যদিকে বন্দরের ইয়ার্ডেও কন্টেইনার জট ক্রমশ বাড়ছে। পাশাপাশি পণ্যভর্তি রপ্তানি কন্টেইনার আটকা পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তৈরি পোশাক কারখানার মালিকরা।
আন্দোলনরত শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, গত শনিবার থেকে তারা এনসিটি ইজারা বাতিলের দাবিতে প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করে আসছিলেন। এরপর মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টা এবং আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়। শ্রমিক দল ও কর্মচারী সংগঠনের নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল না করা পর্যন্ত তারা কাজে ফিরবেন না।
ডিবিসি/এনএসএফ