টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আরও একটি অনন্য মাইলফলক ছুঁয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের তারকা স্পিনার সুনিল নারিন। এই সংস্করণের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় বোলার হিসেবে ৬৫০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) ২০২৬ আসরে সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে মাইলফলকটি স্পর্শ করেন নারিন। ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের হয়ে ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন তিনি।
ম্যাচের আগে নারিনের উইকেট ছিল ৬৪৯টি। সেন্ট লুসিয়ার ইনিংসের ১২তম ওভারের শেষ বলে জন ক্যাম্পবেলকে এলবিডব্লিউ করে কাঙ্ক্ষিত উইকেটটি তুলে নেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ারের ৬১১তম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৬৫০ উইকেট পূর্ণ করেন ৩৮ বছর বয়সী এই স্পিনার।
নারিনের আগে শুধু আফগানিস্তানের রশিদ খান এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ৫৪৭ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে রশিদের শিকার ৭৩৬ উইকেট। সর্বোচ্চ উইকেটের তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা ডোয়াইন ব্রাভোর উইকেট ৬৩১টি। ৫৮২ উইকেট নিয়ে তার পরেই রয়েছেন ইমরান তাহির।
সিপিএলেও নারিনের আধিপত্য চোখে পড়ার মতো। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি তিনি। এই প্রতিযোগিতায় তার শিকার ১৩৭ উইকেট, দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইমরান তাহিরের চেয়ে যা দুটি বেশি।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগেও (আইপিএল) নারিনের সাফল্য ঈর্ষণীয়। ২০১২ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে অভিষেকের পর ফ্র্যাঞ্চাইজিটির জার্সিতে ২০২ ম্যাচে ২০৭ উইকেট নিয়েছেন তিনি। আইপিএলের ইতিহাসে ২০০ উইকেট নেওয়া একমাত্র বিদেশি ক্রিকেটার নারিন। একটি দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার রেকর্ডও তার দখলে।
নারিনের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর একটি তার দুর্দান্ত ইকোনমি রেট। আইপিএলে বড় দলীয় সংগ্রহ ক্রমেই নিয়মিত হয়ে উঠলেও রান নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন এই রহস্যময় স্পিনার। টুর্নামেন্টটিতে তার ক্যারিয়ার ইকোনমি রেট ৬.৭৯। ২০২৬ মৌসুমে ১৫ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি তার ইকোনমি ছিল মাত্র ৬.৬৫।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেও সফল নারিন। বিপিএলে ৪৪ ম্যাচে তার শিকার ৪৮ উইকেট।
৬৫০ উইকেটের এই মাইলফলক তাই নারিনের জন্য শুধু আরেকটি সংখ্যা নয়; টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তার দীর্ঘস্থায়ী আধিপত্য ও ধারাবাহিকতার আরেকটি বড় স্বীকৃতি।
ডিবিসি/ আরএফই