বাংলাদেশ, রাজধানী

টুথপেস্টের পর এবার সয়াবিন তেলে মিলল ভয়াবহ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

রাজধানীর বাজার থেকে সংগৃহীত বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলে উদ্বেগজনক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক বা ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি মিলেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি প্লাস্টিক কণা রয়েছে। বোতলজাত তেলের তুলনায় খোলা তেলে এই দূষণের মাত্রা আরও ভয়াবহ।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস’-এ সম্প্রতি এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার জন্য ঢাকার তেজগাঁও, উত্তরা ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে মোট ৬০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আধুনিক রাসায়নিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বোতলজাত তেলের তুলনায় খোলা সয়াবিন তেলে দূষণের পরিমাণ অন্তত ১.২৪ গুণ বেশি। খোলা তেলে প্রতি লিটারে গড়ে ৫৯ হাজার ৭৭৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে, যার মধ্যে তেজগাঁও থেকে সংগৃহীত নমুনার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। গবেষকদের মতে, শিল্পকারখানার আধিক্য এবং খোলা তেল সংরক্ষণে পাত্রের বারবার ব্যবহারের কারণেই এমন দূষণ ঘটছে।

 

পরীক্ষায় তেলের এসব নমুনায় ছয় ধরনের প্লাস্টিক পলিমার শনাক্ত হয়েছে। এগুলো হলো- এলডিপিই, এইচডিপিই, পিপি, পিইটিই, পিইউ ও নাইলন। বিশ্বে প্রথমবারের মতো কোনো গবেষণায় ভোজ্যতেলে পলিইউরেথেন (পিইউ) ও নাইলনের উপস্থিতি উঠে এসেছে। শনাক্ত হওয়া কণাগুলোর বেশিরভাগই আঁশজাতীয় এবং স্বচ্ছ প্রকৃতির।

 

গবেষণায় মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের একটি ভয়াবহ চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। দৈনন্দিন খাদ্যগ্রহণের মাধ্যমে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রতিদিন গড়ে ১৭.৬৫টি এবং বছরে প্রায় ৬ হাজার ৪৪১টি প্লাস্টিক কণা প্রবেশ করছে। কম ওজনের কারণে শিশুদের ঝুঁকি আরও বেশি। তারা প্রতিদিন গড়ে ৭৭.২১টি এবং বছরে প্রায় ২৮ হাজার ১৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ করছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে, এসব ক্ষুদ্র কণা পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, প্রদাহ ও কোষের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে ১৩০ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট কণাগুলো সরাসরি রক্তে মিশে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

 

গবেষণা দলের প্রধান এবং জাবির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফি মুহাম্মদ তারেক জানান, বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্লাস্টিক পুরোপুরি বর্জন করা বাস্তবসম্মত নয় তাই প্লাস্টিক বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও রিসাইক্লিংয়ের উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। গবেষকরা খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত কঠোর নজরদারি, মানসম্মত ফিল্টারের ব্যবহার, খোলা তেল বিক্রির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক পর্যবেক্ষণের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছেন।

 

এর আগে পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার (ইএসডিও) এক বছরব্যাপী পরিচালিত গবেষণায় দেশের বাজারে প্রচলিত টুথপেস্টেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছিল। ওই গবেষণায় ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্ট নমুনার মধ্যে ২৬টিতেই প্লাস্টিক কণা পাওয়া যায়। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছিল, যার মধ্যে শিশুদের জন্য তৈরি কয়েকটি টুথপেস্টও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন