কক্সবাজারের টেকনাফে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনে ১৬ এপিবিএনের আওতাধীন বিভিন্ন ক্যাম্প এলাকায় একটি বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে কুখ্যাত দুই ডাকাত, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও পুলিশ এসল্ট মামলার এজাহারনামীয় আসামিসহ মোট ১৫ জনকে গ্রেপ্তার এবং আইনানুগ ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় একযোগে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। টেকনাফ ১৬ ব্যাটালিয়ন এপিবিএনের অধিনায়ক (এডিশনাল ডিআইজি) মোহাম্মদ কাউছার সিকদার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় অপরাধ দমন, মাদক, জুয়া ও ডাকাতির বিরুদ্ধে পরিচালিত এই বিশেষ যৌথ অভিযানে ১৬ এপিবিএন, জেলা পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, ব্যাটালিয়ন আনসার এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মোট ১৩৫ জন কর্মকর্তা ও সদস্য অংশ নেন।
অভিযানের শুরুতেই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুখ্যাত ডাকাত আরাফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, তার বিরুদ্ধে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে এবং তাকে গ্রেফতারে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর ছিল। এ ছাড়া পৃথক অভিযানে একাধিক প্রচেষ্টার পর অপর কুখ্যাত ডাকাত হাসান (২৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধেও দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
অভিযান চলাকালীন পৃথক অভিযানে পুলিশ এসল্ট মামলার একজন এজাহারনামীয় আসামি এবং নিয়মিত মামলার আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় আদালতের বিভিন্ন ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে মোট পাঁচটি পরোয়ানা তামিল করা হয়।
অভিযান চলাকালে অনলাইন জুয়া ও পুলিশি কাজে বাধাদানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১১ জনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে (মোবাইল কোর্ট) হাজির করা হয়। পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ যৌথ অভিযানে পাঁচটি ওয়ারেন্ট তামিল, পুলিশ এসল্ট ও নিয়মিত মামলার আসামিসহ সর্বমোট ১৫ জনকে গ্রেপ্তার এবং আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
টেকনাফের ক্যাম্প ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাদক, জুয়া, ডাকাতি এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ডিবিসি/এমএনকে