কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে মাছ শিকারের সময় দুটি নৌকাসহ ৭ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে সাবরাং ইউনিয়নের ৫ নম্বর স্লুইস গেট সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেরা হলেন- সাবরাং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা লাল মিয়ার ছেলে আবদুর রহমান (৫০), নূর আহমদের ছেলে সব্বির আহমদ (৫৫), মৃত মকবুল আলীর ছেলে গুরা মিয়া (৭০) এবং নুরুল মিয়ার ছেলে আব্দুল মতলব (৩৫)। অন্য নৌকায় থাকা শাহপরীর দ্বীপ ডেইল পাড়া এলাকার বাসিন্দা আমতল আলী ও তার দুই ছেলে নূর আবছার এবং আবদুর রহিম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এদিন সকালে সাবরাংয়ের নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা শুক্কুরের মালিকানাধীন একটি নৌকা এবং আমতল আলীর নিজস্ব নৌকায় করে জেলেরা নাফ নদীতে মাছ ধরতে যান। দুপুর ১২টার দিকে মাছ ধরা অবস্থায় আরাকান আর্মির একটি স্পিডবোট এসে অতর্কিতে তাদের ঘেরাও করে এবং অস্ত্রের মুখে দুই নৌকাসহ ৭ জেলেকে মিয়ানমারের ভেতরে নিয়ে যায়।
নয়াপাড়া ওবিএম নৌঘাট বোট মালিক সমিতির সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ জানান, আরাকান আর্মির ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে আসা অন্য জেলেরা ফিরে এসে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এবিষয়ে সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল ফয়েজ বলেন, আমার এলাকা থেকে মাছ ধরতে যাওয়া একটি নৌকাসহ বেশ কয়েকজন জেলেকে আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে গেছে। বিষয়টি দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
নিখোঁজ আমতল আলীর স্ত্রী বলেন, সকাল ৭টার দিকে আমার স্বামী ও দুই ছেলে নাফ নদীতে গিয়েছিল। দুপুর ১২টায় তাদের ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু আরাকান আর্মি তাদের ধরে নিয়ে গেছে। পরিবারের তিন উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে আমরা এখন দিশেহারা। আমি সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, আমার স্বামী ও সন্তানদের যেন দ্রুত ফিরিয়ে আনা হোক।
এদিকে, নাফ নদী থেকে জেলেদের অপহরণের ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ডিবিসি/এসএফএল