কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্তে এক চাঞ্চল্যকর অভিযানে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ব্যবহৃত ড্রোন, ইউনিফর্ম ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিপণ্যসহ সাবেক এক ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিজিবির দায়ের করা মামলায় তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পর বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মোস্তফা কামাল। তিনি টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের খারাইঙ্গাঘোনা এলাকার জহির আহমদের ছেলে এবং ওই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য।
বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোস্তফা কামালের বাড়িতে অভিযান চালায় বিজিবি। তল্লাশিকালে তার বাড়ি থেকে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ)’ তথা নবী হোসেন বাহিনীর সদস্যদের ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ জলপাই রঙের পোশাক (ইউনিফর্ম), ড্রোন, ওয়াকিটকি এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের তেচ্ছিব্রীজ সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) এবং একাধিক রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘাতের জেরে টিকতে না পেরে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর বেশ কিছু সদস্য পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। ধারণা করা হচ্ছে, পালিয়ে আসা ওই সন্ত্রাসীরা তাদের ব্যবহৃত পোশাক ও সরঞ্জামাদি সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তফা কামালের বাড়িতে গোপনে গচ্ছিত রেখেছিল।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার সকালে বিজিবির উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের এক সদস্য বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট আইনে একটি এজাহার দায়ের করেন এবং আসামিকে থানায় হস্তান্তর করেন। পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করার পর বিকেলে আসামিকে কক্সবাজার আদালতে প্রেরণ করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
হোয়াইক্যং ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহ জালাল জানান, গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিজিবি অভিযান চালিয়ে মোস্তফা কামালকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। তবে পুলিশের দেওয়া তথ্য ও গণমাধ্যম কর্মীদের প্রাপ্ত তথ্যমতে, সোমবার রাতে বিজিবি এই অভিযানটি পরিচালনা করে।
এ বিষয়ে বিজিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, সীমান্তে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনায় এর আগেও ৫৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
ডিবিসি/এএমটি