জাপানের রাজধানী টোকিওর একটি অভিজাত শপিং মলে তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর অন্তত ১৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) লাক্সারি গিনজা সিক্স শপিং কমপ্লেক্সের ভেতরে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় পুলিশ জানায়, এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি শপিং সেন্টারের নিচতলায় অবস্থিত একটি এটিএম বুথের সামনে কোনো একটি তরল পদার্থ স্প্রে করে পালিয়ে যায়।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, ছিটানো পদার্থটি ছিল মূলত একটি ঝাঁঝালো বা চোখ-মুখ জ্বালাপোড়া তৈরি করার মতো স্প্রে। প্রাথমিক তদন্তে এতে ক্যাপসাইসিন-এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা সাধারণত কাঁচামরিচে থাকে এবং পিপার স্প্রে তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। জাপানের জাতীয় গণমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, পুলিশ এখনো সন্দেহভাজন ওই হামলাকারীকে খুঁজছে।
ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা বেশ কয়েকজন জানান, স্প্রে করার পর পরই তাদের গলায় তীব্র ব্যথা ও চুলকানি শুরু হয়। এএফপি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৭০ বছর বয়সী এক নারী বলেন, আমি যখন এটিএম বুথের দিকে যাচ্ছিলাম, তখনই তীব্র জ্বালাপোড়া ও ব্যথা অনুভব করি। সেখানে পৌঁছানোর আগেই চারপাশে হইচই শুরু হয়ে গিয়েছিল। প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো ছোটখাটো কোনো আগুন লেগেছে। কিন্তু এটিএম বুথের কোনায় পা রাখতেই আমার গলা চুলকাতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে প্রায় অবশ হয়ে যায়।
ঘটনার পর পরই শপিং মলের সামনে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ একটি জরুরি উদ্ধারকারী দল উপস্থিত হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে সেন্টারের সামনের প্রধান সড়কটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে আসা ছবিতে দেখা যায়, হ্যাজম্যাট স্যুট (রাসায়নিক বিপর্যয় প্রতিরোধী বিশেষ পোশাক) পরিহিত উদ্ধারকারীরা মল থেকে সাধারণ মানুষকে বের করে নিয়ে আসছেন। এছাড়া পুরো এলাকাটি কর্ডন বা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে টারপলিন (ত্রিপল) দিয়ে ঢেকে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পুরো এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সূত্র: বিবিসি
ডিবিসি/এসএফএল