বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ

সাভার প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

মঙ্গলবার ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০৪:৩৬:২২ পূর্বাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

আশুলিয়ার একটি ট্রাফিক পুলিশ বক্সের ভিতরে শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অটোরিকশা থেকে সরকারি জরিমানার কথা বলে রশিদ ছাড়া টাকা আদায় করার অভিযোগও উঠেছে ওই ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

জেলা পুলিশ সুপার বরাবর এ সংক্রান্ত এক লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী এক শ্রমিক।

আজ সোমবার দুপুরে অভিযোগের ব্যাপারে জানান ভুক্তভোগী পোশাক শ্রমিক। এর আগে গত শনিবার ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের একাধিক উর্দ্ধতন কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে আশুলিয়ার বাইপাইলে অবস্থিত ‘টি.আই জাহাঙ্গীর ক্রসিং’ পুলিশ বক্সে এ মারধরের ঘটনা ঘটে। ওই পুলিশ বক্সের দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) খসরু পারভেজের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী পোশাক শ্রমিক ছালেক মিয়ার গ্রামের বাড়ি রংপুর। তিনি আশুলিয়ার বুড়ির বাজার এলাকায় ভাড়া থেকে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।

মারধরের শিকার ছালেক মিয়া বলেন, গত বৃহস্পতিবার আমার এক পরিচিত শফিকুলের অটোরিকশা বাইপাইলে আটক করে জরিমানা বাবদ ২ হাজার টাকা দাবি করে ট্রাফিক পুলিশ। পরে শফিকুলের কাছে টাকা না থাকায় আমাকে খবর দেয়। আমি ও আমার এক বন্ধু আব্দুল জলিল পুলিশ বক্সে উপস্থিত হই। গিয়ে দেখি টিআই খসরু সাহেব বসে আছেন। পরে তাঁকে জরিমানা মওকুফ করার জন্য অনুরোধ করলে তিনি বলেন সরকারি জরিমানা কমানোর কোনো সুযোগ নেই।

পরে আব্দুল জলিল টিআই খসরুর হাতে জরিমানা বাবদ ২ হাজার টাকা দিলে ক্ষেপে উঠেন তিনি। তিনি বলেন, পুলিশ বক্সে সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে। কেন ক্যামেরার সামনে টাকা দেয়া হল? আব্দুল জলিল বলেন, সরকারি ফাইন যেহেতু, ক্যামেরার সামনে দিলেই কি আর পেছনে দিলেই কি? পরে আব্দুল জলিলসহ আমাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া হয়। আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন তিনি। পরে আমাকে আবার ডেকে নেয় পুলিশ বক্সের ভেতর। তারপর আমাকে চড় ঘুষি কিল থাপ্পড় মারতে থাকেন। আমাকে গ্রেপ্তার করার ভয়ও দেখায়। পরে আমার পোশাক কারখানায় আইডি কার্ড দেখালে আমাকে ছেড়ে দেয়।

ছালেক মিয়াকে এরপরে কোনোদিন দেখলে মেরে হাত পা ভেঙ্গে দেয়ার হুমকিও দিয়েছেন ট্রাফিক পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

ভুক্তভোগী আব্দুল জলিল বলেন, ‘শফিকুলের রিকশা জন্য পরে ঠিকই টাকা দিতে হয়েছে। ২ হাজার টাকা দেয়ার পর রিকশা ছেড়ে দিয়েছে কিন্তু এ টাকার কোনো রশিদ দেননি। যদি সরকারি জরিমানাই হত তাহলে সিসি ক্যামেরার সামনে টাকা নিতে তাঁর সমস্যা কি?’

ভুক্তভোগী ছালেক মিয়া ও আব্দুল জলিল এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত স্বাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তুলেছেন। এ সংক্রান্ত এক লিখিত অভিযোগ ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার ও ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে জমা দিয়েছেন তাঁরা।

রিক্সাচালক শফিকুল বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার এক রোগীকে হাসপাতালে নামিয়ে ফেরার পথে আমার রিক্সাটি আটক করে পুলিশ বক্সের ট্রাফিক পুলিশেরা। পরে আমি আব্দুল জলিল ও ছালেক ভাইকে জানাই। তাঁরা আসলে তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। টিআই খসরু সাহেবের মুখের ভাষা অনেক খারাপ। তিনি গালিগালাজ করেন। টাকা নিয়ে ঝামেলা হওয়ার পর আমাকে আর সেখানে থাকতে দেয়নি। আমার কাছ থেকে জরিমানার কথা বলে টাকা ঠিকই রেখেছে কিন্তু কোনো রশিদ দেয়নি। পরে আমার রিক্সা আমাকে বুঝিয়ে দেয়া হয়।’

অভিযুক্ত টিআই খসরু পারভেজ বলেন, ‘মূলত অটোরিকশা আটক করলে কিছু দালালচক্র আছে। যারা চালক থেকে টাকা নিয়ে সুপারিশ করে রিকাশা ছাড়ানোর চেষ্টা করে। তাঁদের একজনকে আমি বক্সে ডেকে বকাঝকা করেছি। কিন্তু কোনো মারধর করা হয়নি। আর রসিদ ছাড়া টাকা নেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়।’

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. আব্দুল্লাহিল কাফি বলেন, এমন অভিযোগ আমার কাছে এখনও পৌছেনি। সিসি ক্যামেরার সামনে মারধরের ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা অনেক সময়ই এমন অভিযোগ পাই। তবে তদন্ত করলে দেখা যায় সত্যতা নেই। রশিদ ছাড়া টাকা আদায়ের তো কোন প্রশ্নই ওঠেনা। যদি এমন কিছু হয় তাহলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন