যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধবিরতি বা শান্তি আলোচনার প্রস্তাবকে সন্দেহের চোখে দেখছে ইরান। তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এই আলোচনার আড়ালে আসলে একটি সুক্ষ্ম ‘ফাঁদ’ পাতা হয়েছে। তাদের দাবি, আলোচনার অজুহাতে ইরানের বর্তমান শাসনের টিকে থাকা শেষ পর্যায়ের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের প্রকাশ্য স্থানে এনে গুপ্তহত্যা করাই হতে পারে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরান সরকার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বিশেষ করে দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ-বাঘের গালিবাফকে নিয়ে উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি। সাবেক এই আধাসামরিক কমান্ডার সাম্প্রতিক একাধিক বিমান হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ইরানের গুটিকয়েক শীর্ষ নেতার মধ্যে অন্যতম। শান্তি আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র তাকে সরাসরি উপস্থিত থাকার শর্ত দিচ্ছে, যা তেহরানের মতে তাকে একটি ‘অ্যামবুশ’ বা অতর্কিত হামলার শিকারে পরিণত করার কৌশল হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান ও তাদের বন্ধুপ্রতিম আরব দেশগুলোর কর্মকর্তাদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তও সন্দেহজনক। ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করার যে ঘোষণা দিয়েছেন, সেটিকে ইরান ‘কৌশলগত চাল’ হিসেবে দেখছে। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, এই স্থগিতাদেশ কেবল বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি চেষ্টা। বাজার স্থিতিশীল হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় বড় ধরনের হামলা শুরু করতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং একের পর এক বিমান হামলায় ইরানের নেতৃত্বের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের আলোচনার প্রস্তাবকে তেহরান একটি ‘রুশ’ বা ধোঁকা হিসেবে গণ্য করছে। তাদের ধারণা, আলোচনার টেবিলে ডেকে এনে অবশিষ্ট নেতাদের অবস্থান নিশ্চিত করে তাদের নির্মূল করাই বর্তমান মার্কিন ও ইসরায়েলি পরিকল্পনার অংশ।
এখন পর্যন্ত এই অভিযোগের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে পারমাণবিক শক্তি ও আঞ্চলিক আধিপত্য নিয়ে দুই দেশের এই স্নায়ুযুদ্ধ এখন এক নতুন মোড় নিয়েছে।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট
ডিবিসি/ এসএফএল