হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ হঠাৎ স্থগিত করার পেছনে প্রধান কারণ ছিল সৌদি আরবের চাপ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনের বরাতে বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, এই অভিযানের জন্য সৌদি আরব তাদের সামরিক ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি বাতিল করায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত তার পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হন।
বুধবার (৬ মে) একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প হঠাৎ করেই ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর ঘোষণা দেন। এই ঘোষণায় অন্যান্য উপসাগরীয় মিত্রদের পাশাপাশি সৌদি নেতৃত্বও চরম বিস্মিত ও বিরক্ত হয়। ফলস্বরূপ, রিয়াদ ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দেয় যে, এই অভিযানের জন্য রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান এয়ারবেস থেকে মার্কিন বিমান পরিচালনা বা তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের কোনো অনুমতি দেয়া হবে না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সমস্যা সমাধানে ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে ফোনালাপ হলেও কোনো কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওই আকাশসীমায় মার্কিন সামরিক বিমানের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতে ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন।
এনবিসি নিউজের তথ্যমতে, শুধু সৌদি আরব নয়, অন্যান্য মিত্র দেশগুলোও ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণায় অপ্রস্তুত ছিল। এমনকি অভিযান শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প কাতারের নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেন।
এক সৌদি সূত্রকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন। সৌদি নেতৃত্ব এই ঘোষণায় বিস্মিত হয়েছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ওই সূত্র জানায়, সবকিছু খুব দ্রুত এবং বাস্তবেই ঘটছিল, যা ছিল মূল সমস্যা। এছাড়া, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের নেওয়া কূটনৈতিক উদ্যোগকে সৌদি আরব ‘ব্যাপকভাবে সমর্থন’ করছে বলেও ওই সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সূত্র: আনাদোলু
ডিবিসি/এফএইচআর