ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

আন্তর্জাতিক, পাকিস্তান

ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে, মূল খসড়া থেকে ভিন্ন: ইসহাক দার

ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে, মূল খসড়া থেকে ভিন্ন: ইসহাক দার

আন্তর্জাতিক, পাকিস্তান

ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে, মূল খসড়া থেকে ভিন্ন: ইসহাক দার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

শুক্রবার ৩রা অক্টোবর ২০২৫ ০৭:১৯:০১ অপরাহ্ন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা যুদ্ধ বন্ধের জন্য যে ২০-দফা পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন, তা আরব ও মুসলিম দেশগুলোর প্রস্তাবিত মূল খসড়া থেকে ভিন্ন বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। শুক্রবার (৩রা অক্টোবর) তিনি বলেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে ২০টি দফা প্রকাশ করেছেন, তা আমাদের ছিল না। আমাদের খসড়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।'

এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় সোমবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে একটি শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণার পর। পরিকল্পনাটিতে যুদ্ধবিরতি, সকল বন্দীর মুক্তি, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার জন্য একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গঠনের কথা বলা হয়েছে, যে কাঠামো থেকে হামাসকে বাদ দেওয়া হবে।

 

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে পাশে নিয়ে ট্রাম্প এই পরিকল্পনা ঘোষণা করেন এবং এটি মেনে নেওয়ার জন্য হামাসকে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন। পরে তিনি এই সময়সীমা তিন থেকে চার দিন পর্যন্ত বাড়ান। অন্যদিকে, হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ নাজ্জাল আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, তারা প্রস্তাবটি আলোচনা করছেন এবং সময়সীমার চাপে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।

 

প্রকাশিত পরিকল্পনাটি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং বেশ কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশের যৌথ প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তবে অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আরব নেতারা যে খসড়ায় সম্মত হয়েছিলেন, নেতানিয়াহুর অনুরোধে তাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়। ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সাথে নেতানিয়াহুর ছয় ঘণ্টার বৈঠকের পর এই পরিবর্তনগুলো চূড়ান্ত করা হয়। সংশোধিত সংস্করণে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টিকে হামাসের নিরস্ত্রীকরণের সাথে যুক্ত করা হয়েছে এবং ইসরায়েলকে গাজার অভ্যন্তরে একটি বাফার জোনে সেনা মোতায়েন রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

 

প্রাথমিকভাবে পাকিস্তান, কাতার, তুরস্ক এবং সৌদি আরবসহ আটটি আরব ও মুসলিম দেশ ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছিল। তবে এখন বিভিন্ন দেশ পরিকল্পনার বিস্তারিত বিষয় নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরাহমান আল থানি বলেছেন, 'পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য, যেমন যুদ্ধ শেষ করা, তা প্রশংসনীয়। তবে কিছু বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন, যা নিয়ে অবশ্যই আলোচনা করতে হবে।'

 

একইভাবে, মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি জানিয়েছেন, শাসনব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য আরও আলোচনার প্রয়োজন।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো হামাসের নিরস্ত্রীকরণের শর্ত। ফিলিস্তিনি সশস্ত্র প্রতিরোধের প্রধান শক্তি হিসেবে হামাস বারবার নিরস্ত্রীকরণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। এছাড়া, এই পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের বিষয়টিকে একটি "অধিকার" হিসেবে না দেখে শুধুমাত্র ‘ফিলিস্তিনি জনগণের আকাঙ্ক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
 

সূত্র: আল জাজিরা

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন