মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০২৭ সালের বাজেটের তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার। শুক্রবার এই বাজেটকে "ভেতর থেকে পচা" (rotten to the core) আখ্যা দিয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, ডেমোক্র্যাটরা কোনোভাবেই এটি আইনে পরিণত হতে দেবে না।
এক বিবৃতিতে শুমার বলেন, "বাজেট হলো এক্স-রের মতো: ভেতরে আসলে কী ঘটছে তা এটি দেখিয়ে দেয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাজেট ভেতর থেকে পচা, এবং ডেমোক্র্যাটরা নিশ্চিত করবে যেন এটি কখনোই পাস না হয়।"
২০২৭ অর্থবছরের জন্য ট্রাম্প শুক্রবার রেকর্ড ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রস্তাব করার পর শুমারের এই মন্তব্য সামনে এলো। এটি মার্কিন ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাব। একই সাথে এই বাজেটে অভ্যন্তরীণ ব্যয় ব্যাপকভাবে কমানোর কথা বলা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই পরিকল্পনায় ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিবেচনামূলক (discretionary) প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং অতিরিক্ত ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের বাধ্যতামূলক (mandatory) তহবিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সব মিলিয়ে মোট প্রতিরক্ষা বাজেট দাঁড়িয়েছে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন বিবেচনামূলক অ-প্রতিরক্ষা খাতে ১০% (প্রায় ৭৩ বিলিয়ন ডলার) ব্যয় হ্রাসের প্রস্তাব করেছে। সামরিক ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ কর্মসূচিগুলো সংকুচিত করার ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপ হিসেবেই এটি দেখা হচ্ছে।
শুমার রেকর্ড ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের দিকে আঙুল তুলে এর বিপরীতে জ্বালানি, সাশ্রয়ী আবাসন এবং শিক্ষার মতো অভ্যন্তরীণ খাতে প্রস্তাবিত কাটছাঁটের বৈসাদৃশ্য তুলে ধরেন। তিনি প্রশাসনের বৃহত্তর অর্থনৈতিক নীতিরও সমালোচনা করে বলেন, এসব নীতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন— মুদিপণ্য, গ্যাস, আবাসন এবং স্বাস্থ্যসেবার খরচ আকাশছোঁয়া হয়েছে।
এই ডেমোক্র্যাট নেতা বলেন, "মূল্যবৃদ্ধির সাথে লড়াই করা আমেরিকানদের জন্য ট্রাম্পের বাজেটে একটাই বার্তা রয়েছে: তিনি এসবের কোনো তোয়াক্কা করেন না।" শুমার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ডেমোক্র্যাটরা এই বাজেটের বিরুদ্ধে দাঁতে দাঁত চেপে লড়বে। যেসব রিপাবলিকান এটি সমর্থন করবেন, তাদের রাজনৈতিক পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
উল্লেখ্য, ইরানে চলমান মার্কিন যুদ্ধের (যা এখন দ্বিতীয় মাসে পড়েছে) কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ক্রমাগত কমছে। নির্বাচনী প্রচারণায় "প্রথম দিনেই" দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও সাধারণ মানুষ বর্তমানে চরম মূল্যবৃদ্ধির সাথে লড়াই করছে, যা এই বাজেটের প্রেক্ষাপটকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সূত্র: আনাদোলু
ডিবিসি/কেএলডি