আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের বিমানে হামলার ‘নাটক’ সাজায় ইসরায়েল: তুরস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

গত জুলাই মাসে আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন চলাকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিমানে ইরানের হামলার চক্রান্তসংক্রান্ত ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যটি সাজানো ছিল বলে তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেছে তুর্কি কর্মকর্তারা। মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা ভেস্তে দেওয়া এবং তুরস্কের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো নস্যাৎ করার লক্ষ্যেই ইসরায়েল এই ভুয়া তথ্য ছড়িয়েছিল বলে ধারণা করছে আঙ্কারা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৭-৮ জুলাই আঙ্কারায় আয়োজিত ন্যাটো সম্মেলনের সময় ইসরায়েলি গোয়েন্দারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে জানায় যে, ইরানি একটি গোপন দল আঙ্কারা বিমানবন্দরের এক কিলোমিটারের মধ্যে থেকে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র (ম্যানপ্যাডস) দিয়ে ট্রাম্পের নতুন 'এয়ার ফোর্স ওয়ান' বিমানে হামলা চালাতে পারে। এই সতর্কবার্তা পাওয়ার পর মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস চরম সতর্কতা অবলম্বন করে। ট্রাম্পের বিমানটির উড্ডয়ন আঙ্কারা বিমানবন্দর থেকে সরিয়ে বেসামরিক ভবনের ঝুঁকি কম থাকা এসেনবোগা বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। একই সাথে নতুন বিমানে পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ফিরিয়ে আনা হয়। তৎকালীন পরিস্থিতি এতই আশঙ্কাজনক বলে তুলে ধরা হয়েছিল যে, দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্যমতে, ট্রাম্পকে গোপনে একটি ক্যাটারিং গাড়িতে করে সি-৩২ নামের একটি সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

 

তবে তুরস্কের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা শুরু থেকেই এই গোয়েন্দা তথ্যের সত্যতা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। তাদের মতে, আঙ্কারার চরম নিরাপত্তা বলয় ও অসংখ্য চেকপোস্ট ভেদ করে অস্ত্র পরিবহন করে এমন জটিল ও নিখুঁত হামলা চালানো কোনো ইরানি সেলের পক্ষে প্রায় অসম্ভব ছিল। তাছাড়া, আঙ্কারার সাথে তুলনামূলক স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখা ইরান কখনোই তুরস্কের মাটিতে সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওপর হামলা চালিয়ে দেশটির সাথে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর চরম ঝুঁকি নেবে না। আঙ্কারার অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, যা ঘটেনি এবং যা কখনো পরিকল্পনাই করা হয়নি, সেটির জন্য হিরো সাজতেই হয়তো এই তথ্য সাজানো হয়েছে।

 

তুর্কি কর্মকর্তাদের মতে, এই ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যটি খুবই সংবেদনশীল মুহূর্তে সামনে আনা হয়েছিল। সম্মেলনের সময় ট্রাম্প তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সাথে বৈঠকে জানান যে, ইরানের সাথে যুদ্ধ শেষ হতে চলেছে এবং আলোচনার মাধ্যমে স্থবিরতা কাটিয়ে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী। এছাড়া ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার কারণে তুরস্কের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তিনি তুলে নিতে এবং আঙ্কারার কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের ওপর আরও জোরদার হামলা চালানোর পক্ষে ছিলেন এবং অঞ্চলের সামরিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির ঘোর বিরোধিতা করে আসছিলেন। ফলে ট্রাম্প-ইরান শান্তি আলোচনা ভেস্তে দেওয়া, ট্রাম্প-এরদোয়ান ঘনিষ্ঠতা নষ্ট করা এবং নিজেদের ট্রাম্পের রক্ষক হিসেবে জাহির করতেই নেতানিয়াহু সরকার এই ভিত্তিহীন হামলার নাটক সাজিয়েছিল বলে মনে করছে তুর্কি প্রশাসন।

 

সূত্র: মিডলইস্ট আই

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন