আন্তর্জাতিক, আমেরিকা

ট্রাম্পের বিশ্বব্যাপী আরোপিত শুল্ক অবৈধ ঘোষণা মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বব্যাপী শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক আদেশে আদালত জানায়, একতরফাভাবে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছেন।

হোয়াইট হাউসের অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে পরিচিত এই শুল্ক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আদালতের এমন অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বিশাল পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে গত বছর অভিবাসন নীতি, স্বাধীন সংস্থার প্রধানদের বরখাস্ত এবং সরকারি ব্যয় হ্রাসের মতো বিষয়ে এই রক্ষণশীল আদালত বারবার প্রেসিডেন্টের পক্ষে রায় দিলেও, এবারের হারটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

 

প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের লেখা ৬-৩ মেজরিটির এই রায়ে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে অসীম পরিমাণ, মেয়াদ এবং পরিধির শুল্ক আরোপের যে অসাধারণ ক্ষমতা দাবি করেছেন, তার জন্য কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন থাকা আবশ্যক। 

 

আদালত স্পষ্ট করেছে, প্রেসিডেন্ট যে 'জরুরি ক্ষমতা' বা আইইইপিএ (IEEPA)-এর ওপর নির্ভর করেছিলেন, তা শুল্ক আরোপের জন্য পর্যাপ্ত নয়। প্রধান বিচারপতি তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, কংগ্রেস যখন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয়, তখন তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সীমাবদ্ধ করে দেয়, যা এই ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায়নি। 

 

তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ৩য় অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আদালতের কাজ কেবল আইনি সীমা নির্ধারণ করা, এবং সেই অনুযায়ী প্রেসিডেন্টকে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।

 

আদালতের এই সিদ্ধান্তে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন ট্রাম্পের আমলে নিয়োগ পাওয়া দুই রক্ষণশীল বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট ও নিল গোরসাচ, যার সঙ্গে যোগ দেন আদালতের অপর তিন লিবারেল বিচারপতি। অন্যদিকে, বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিটো ও ব্রেট কাভানা এই রায়ের বিপক্ষে ভিন্নমত পোষণ করেন। 

 

উল্লেখ্য, এই শুল্কের আওতায় ইতোমধ্যে ১৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ সংগৃহীত হয়েছে, তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থের বিষয়ে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত দেয়নি। এই রায়ের ফলে ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল এবং প্রশাসনকে বাণিজ্য নীতি কার্যকরের জন্য এখন কংগ্রেসের মুখাপেক্ষী হতে হবে।

 

তথ্যসূত্র: আলজাজিরা

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন