মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের নতুন নেতাদের লক্ষ্য করে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি তাদের চরম বিশৃঙ্খল এবং মারাত্মকভাবে বিভক্ত বলে আখ্যায়িত করেছেন। তবে ট্রাম্পের এই বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টার কড়া জবাব দিয়ে নিজেদের ঐক্যের কথা তুলে ধরেছে ইরানের নেতৃত্ব।
তেহরানে মধ্যরাতের ঠিক পরেই স্থানীয় মোবাইল নেটওয়ার্কগুলোর মাধ্যমে দেশটির সব গ্রাহকের কাছে একটি বিশেষ খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠানো হয়। এটি ছিল মূলত ইরানের প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্টের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি যৌথ বার্তা।
ওই বার্তায় বলা হয়েছে, "ইরানে কট্টরপন্থী বা মধ্যপন্থী বলে কিছু নেই। আমরা সবাই ইরানি এবং বিপ্লবী… এক জাতি, এক পথ।" গত এক সপ্তাহে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ইরানি গণমাধ্যমগুলোতে ছোটখাটো কৌশলগত বিষয়ে মতবিরোধের কিছু চিত্র উঠে এসেছিল। সংবাদ সংগ্রহের কাজে আমরাও এখানে ইরানের নেতৃত্বের সমর্থক এবং সমালোচক- উভয় পক্ষের সাথেই কথা বলেছি।
তবে এই বার্তা পাঠানোর মূল উদ্দেশ্য হলো এটি স্পষ্ট করা যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার মতো বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে শীর্ষ পর্যায়ে সম্পূর্ণ ঐকমত্য বজায় রয়েছে। কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধ এবং শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় নেতা ও সামরিক কমান্ডারদের গুপ্তহত্যার পর ইরানে যে নতুন ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, সে বিষয়ে অনেক ইরান পর্যবেক্ষকও এই একই মূল্যায়ন করে থাকেন।
বর্তমানে দেশটিতে অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে কাউকে তুলনামূলক বেশি বাস্তববাদী মনে করা হয়, আবার কাউকে কট্টরপন্থী হিসেবে দেখা হয়। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে শুরু করে হরমুজ প্রণালি পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তাদের 'রেড লাইন' বা চূড়ান্ত সীমাগুলো একেবারেই স্পষ্ট।
সূত্র: বিবিসি
ডিবিসি/কেএলডি