আন্তর্জাতিক, ভারত

ট্রাম্পের সাথে বন্ধুত্ব, আবার খামেনির শেষ বিদায়েও আমন্ত্রিত, বিপাকে মোদি!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৫ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিমান হামলায় তেহরানে নিহত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে তেহরান। ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে এই আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ ও ৫ জুলাই ইরানের রাজধানী তেহরানে প্রয়াত এই নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য একটি বিদায়ী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর পরদিন অর্থাৎ ৬ জুলাই তেহরানে এবং ৭ জুলাই কোম শহরে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে খামেনির মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে এবং ৯ জুলাই আরেকটি জানাজা শেষে ইমাম রেজার মাজারে তাঁকে দাফন করা হবে। তবে তেহরানের এই আমন্ত্রণে দিল্লি বড় ধরনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত পরীক্ষায় পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কূটনৈতিক সূত্র ও বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই জানাজায় অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, কারণ ওই সময়ে মোদির আগে থেকে নির্ধারিত বিদেশ সফর রয়েছে। তবে খামেনির জানাজায় কোনো সিনিয়র মন্ত্রী বা উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল পাঠানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে। এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে যখন ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যান, তখন ভারত একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছিল এবং তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়কে তেহরানে পাঠিয়েছিল।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন ও বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বহু শতাব্দী পুরনো এবং জ্বালানি, বাণিজ্য ও সংস্কৃতির পাশাপাশি ভারতের জন্য ইরানের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে পাকিস্তানের ভূখণ্ড এড়িয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় বাণিজ্যের একমাত্র পথ হচ্ছে ইরানের চাবাহার বন্দর, যেখানে ভারত বিপুল বিনিয়োগ করেছে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত ও সামরিক অংশীদারত্ব এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে। খামেনি যেহেতু সরাসরি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন, তাই তার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় মোদি বা ভারতের উচ্চপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধিত্ব ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবকে ক্ষুব্ধ করতে পারে। 

 

এ প্রসঙ্গে ভূরাজনীতি বিশেষজ্ঞ ও নয়াদিল্লিভিত্তিক সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ব্রহ্ম চেলানি বলেছেন যে, খামেনির শেষ বিদায়ের আমন্ত্রণ দিল্লিকে অত্যন্ত নাজুক অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর ভারতের নীরবতা তেহরানের চোখে এক ধরনের কূটনৈতিক ঋণ তৈরি করেছে, তবে জানাজায় ভারতের বেশি হাই-প্রোফাইল উপস্থিতি আবার ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্ক ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

 

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন