আন্তর্জাতিক, আমেরিকা

ট্রাম্পের সাথে ‘টেক্কা’ নেয়ার সুযোগ নেই নেতানিয়াহুর!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

চলমান প্রায় তিন মাসব্যাপী ইরান যুদ্ধ অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুক্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর ইসরায়েলের কোনো প্রভাব খাটানোর সুযোগ নেই বলে ঘনিষ্ঠজনদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সোমবার (২৫ মে) রয়টার্সকে দেওয়া দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তার গোপন সূত্রে এই তথ্য সামনে এসেছে।

মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের প্রাথমিক বিরতিসংক্রান্ত আলোচনা থেকে ইসরায়েলকে অনেকটাই বাইরে রাখা হয়েছে।

 

শনিবার (২৩ মে) ট্রাম্প খুব শিগগিরই চুক্তির ঘোষণা আসার কথা জানালেও, মার্কিন ও ইরানি প্রশাসন উভয়ই এখনই চূড়ান্ত কোনো সমঝোতার আশা দেখছে না। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ইরানের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধ,  এই বিষয়গুলো নিয়ে এখনও উভয় পক্ষ দ্বিমুখী অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে, নেতানিয়াহু সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার অধিকার দাবি করছেন।কিন্তু ইরান যদি দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা সম্পূর্ণ বন্ধের শর্তে অনড় থাকে, তবে এই চুক্তি ভেস্তে যেতে পারে। নেতানিয়াহুর কার্যালয় অবশ্য এই রিপোর্টের ওপর তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

 

প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে এবং পরবর্তী ৬০ দিন পারমাণবিকসহ অন্যান্য জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা চলবে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। ইরানি সূত্র মতে, জাতিসংঘের ওয়াচডগের নজরদারিতে উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম লঘুকরণসহ বেশ কিছু বাস্তবসম্মত সমাধান খোঁজা হতে পারে। ইসরায়েলের পারমাণবিক উদ্বেগ এখনই দূর না হলেও, নেতানিয়াহু স্বীকার করেছেন যে ট্রাম্পকে প্রভাবিত করার মতো কোনো কৌশল এই মুহূর্তে ইসরায়েলের হাতে নেই।

 

গত এক সপ্তাহে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে অন্তত তিনবার ফোনালাপ হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম আলাপের পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘নেতানিয়াহু একজন ভালো মানুষ, আমি যা চাইব তিনি তাই করবেন।’ তবে শনিবারের শেষ ফোনালাপের পর নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খোলার সমঝোতা স্মারক এবং চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নেতানিয়াহুর দাবি, ট্রাম্প সম্মত হয়েছেন যে চূড়ান্ত চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সাইটগুলো ধ্বংস এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশটির বাইরে পাঠাতে হবে। সেই সঙ্গে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের বিষয়টিও ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

 

ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসলেও বর্তমানে তাদের কাছে ৪০০ কেজির বেশি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা দিয়ে ১১টি পারমাণবিক বোমা তৈরি সম্ভব বলে ইসরায়েলের দাবি। এই চুক্তিটি নেতানিয়াহুর জন্য এমন এক সংবেদনশীল সময়ে আসছে যখন সামনেই দেশটির সাধারণ নির্বাচন এবং বিরোধীরা যুদ্ধে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার জন্য তাঁর তীব্র সমালোচনা করছেন। যুদ্ধের শুরুতে নেতানিয়াহুর লক্ষ্য ছিল ইরানের ধর্মীয় সরকারকে উৎখাত করা, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং আঞ্চলিক প্রভাব খর্ব করা। এমনকি প্রথম দিনের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেইকে হত্যার চূড়ান্ত নির্দেশও ট্রাম্প দিয়েছিলেন নেতানিয়াহুর পরামর্শে। তবে পরবর্তীতে ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হরমুজ প্রণালি চালুর দিকে মোড় নেওয়ায় দুই দেশের যুদ্ধ-উদ্দেশ্যে ভিন্নতা তৈরি হয়।

 

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন