আন্তর্জাতিক, আমেরিকা

ট্রাম্পের হামলা থেকে বাঁচতে ইরানের হাতে সময় মাত্র ১০ দিন!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে দেখা দিয়েছে চরম উত্তেজনা। যুক্তরাষ্ট্র সেখানে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করছে। মার্কিন প্রশাসন ও পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রস্তুতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ওয়াশিংটন চাইলে চলতি সপ্তাহের শেষভাগেই ইরানে হামলা চালাতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে একটি নতুন চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন এবং এর মধ্যে চুক্তি না হলে সামরিক হামলার কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য এই হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো এবং উৎক্ষেপণকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মূল উদ্বেগের জায়গাটি হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও মার্কিন কর্মকর্তারা চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে যথেষ্ট সন্দিহান। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে গাজা বোর্ড অব পিসের এক বৈঠকে ট্রাম্প স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত বছর ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলা না হলে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতো। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, আগামী ১০ দিনের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে নতুন কোনো চুক্তি হবে নাকি যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে চায়, যা তেহরান সবসময় অস্বীকার করে এসেছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আলোচনা শুরু হলেও গত বছরের জুনে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে তা থমকে যায় এবং যুক্তরাষ্ট্র সে সময় ইরানের স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল।

 

হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমানবাহী রণতরি, ক্রুজার ও ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন এবং ৫০টির বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে। এর পাশাপাশি এফ-৩৫, এফ-২২ এবং এফ-১৬ এর মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার পাঠানো হয়েছে। গত বছর হামলায় অংশ নেওয়া বি-২ বোমারু বিমানগুলোকেও সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের আটটি স্থায়ী সামরিক ঘাঁটিতে থাকা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার মার্কিন সেনার সুরক্ষায় গত মাসে প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। মূলত প্রতিরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতার কারণেই গত জানুয়ারি মাসে ইরানের বিক্ষোভের সময় যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে হামলা চালাতে পারেনি।

 

অন্যদিকে, ইসরায়েলও সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য নিজেদের ব্যাপকভাবে প্রস্তুত করছে। সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা হ্রাসে মার্কিন পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে কয়েক সপ্তাহ ধরে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো না হলেও, ইসরায়েল নিজস্ব কিছু পরিকল্পনা প্রস্তুত করে রেখেছে। তাদের লক্ষ্য হলো কয়েক দিনের তীব্র হামলার মাধ্যমে ইরানকে মানসিকভাবে দুর্বল করে পরমাণু আলোচনায় ছাড় দিতে বাধ্য করা। এ বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনার জন্য ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটির বৈঠক আগামী রোববার পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

সূত্র: আলজাজিরা

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন