আন্তর্জাতিক, অন্যান্য

ট্রাম্পের হুমকির মুখে গ্রিনল্যান্ডে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করল ডেনমার্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বশাসিত ড্যানিশ অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকির মধ্যেই সেখানে অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছে ডেনমার্ক। ড্যানিশ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রয়্যাল ড্যানিশ আর্মির প্রধান পিটার বয়সেন এবং সেনাদের একটি ‘উল্লেখযোগ্য দল’ পশ্চিম গ্রিনল্যান্ডের কাঙ্গারলুসসিয়াক-এ অবতরণ করেছে।

গণমাধ্যম টিভি২-এর প্রতিবেদন অনুসারে, ৫৮ জন ড্যানিশ সেনা এই আর্কটিক অঞ্চলে পৌঁছেছেন। সেখানে আগে থেকেই ‘অপারেশন আর্কটিক এনডুরেন্স’ নামক বহুজাতিক সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে প্রায় ৬০ জন সেনা অবস্থান করছিলেন, নতুন দলটি তাঁদের সঙ্গেই যোগ দিয়েছে। তবে ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

 

যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দাবি করে খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই বিশাল আর্কটিক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিতে ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ না করার কয়েক ঘণ্টা পরেই ডেনমার্ক সেনা মোতায়েন করল। 

 

সোমবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলপূর্বক দ্বীপটি দখলের সম্ভাবনা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ‘কোনো মন্তব্য নেই’ বলে জানান। এর আগে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গহর স্টোরকে পাঠানো এক বার্তায় নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় তিনি আর শান্তির কথা ভাবতে বাধ্য নন বলে উল্লেখ করার পরপরই তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসে।

 

ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে নমনীয়তা দেখালেও বারবার স্পষ্ট করেছে যে এই অঞ্চল বিক্রির জন্য নয় এবং বলপূর্বক দ্বীপটি দখলের যেকোনো চেষ্টা ন্যাটোর সমাপ্তি ডেকে আনবে। 

 

ন্যাটোর ৩২টি সদস্য দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক উভয়ই অন্তর্ভুক্ত এবং জোটের অনুচ্ছেদ ৫ অনুযায়ী, কোনো সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হয়। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে সোমবার ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মন্ত্রীদের সঙ্গে আর্কটিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং যৌথ ন্যাটো মিশন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং মিত্র হিসেবে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

 

নিরাপত্তা সম্পর্কের এই টানাপড়েনের পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ড কেনার চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ডেনমার্ক ও অন্য সাতটি ইউরোপীয় দেশের ওপর শুল্ক আরোপের ট্রাম্পের হুমকিতে আটলান্টিক এলাকাজুড়ে বড় ধরনের বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

 

এই সংকট মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠকে বসবে, যেখানে পাল্টা শুল্ক আরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর বাণিজ্য বিধিনিষেধ বা ‘ট্রেড বাজুকা’ চালুর মতো পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের প্রতি দ্ব্যর্থহীন শ্রদ্ধার ওপর জোর দিয়েছেন।

 

উল্লেখ্য, গত বছর ড্যানিশ পত্রিকা বার্লিংস্কে পরিচালিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের ৮৫ শতাংশ বাসিন্দা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিপক্ষে এবং মাত্র ৬ শতাংশ মানুষ এর পক্ষে মত দিয়েছেন।

 

সূত্র: আল জাজিরা

 

ডিবিসি/এনএসএফ

আরও পড়ুন