মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরানের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের পর দেশটির ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশনায় এই অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে এই চুক্তির তীব্র সমালোচনা করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দাবি করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত 'হতাশা থেকে' সব ধরনের প্রভাব খাটিয়ে এই চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছেন।
চুক্তিটির বিষয়ে প্রথমবারের মতো প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মোজতবা খামেনি বলেন, এই চুক্তির ব্যাপারে তাঁর ভিন্নমত থাকলেও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশের জনগণের অধিকার রক্ষার আশ্বাস দেওয়ায় তিনি এটির অনুমোদন দিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের সাথে সরাসরি আলোচনা হলেও তা কোনোভাবেই শত্রুর অবস্থান মেনে নেওয়া বা মাথানত করা বোঝাবে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তাঁর বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দায়িত্ব নেন মোজতবা খামেনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য।
খামেনির এই মন্তব্যের সরাসরি কোনো জবাব না দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলসহ সব ফ্রন্টে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রত্যাশা করছেন।
মোট ১৪টি মূল বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি এবং দেশটির পুনর্গঠনে ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠন। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষকে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে।
এদিকে, এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেক রিপাবলিকান নেতা ইরানের জন্য পুনর্গঠন তহবিল রাখার বিষয়টিকে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির বড় ভুল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই চুক্তির পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়ে জানিয়েছেন, ইরান যদি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস এবং আঞ্চলিক ছায়াগোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধের শর্ত পুরোপুরি পূরণ না করে, তবে তারা কোনো অর্থ বা নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পাবে না।
ডিবিসি/আরএসএল