জেলার সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে শতভাগ ফেল করায় ৫ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শোকজ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচটি বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও উত্তীর্ণ হয়নি একজনও। এমন ফলাফলে নড়েচড়ে বসেছে জেলা শিক্ষা বিভাগ। ফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে পাঁচ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন আকতার।

 

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় চারজন শিক্ষার্থী। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। একই উপজেলার অনভারডিঘি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষার্থী ছিল সাতজন, মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাঁচজন এবং তাওরিগাঁ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাঁচজন। এই তিন বিদ্যালয়েরও কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

 

অন্যদিকে, হরিপুর উপজেলার রামপুর ভাতুরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। অর্থাৎ, পাঁচ বিদ্যালয়ের মোট ২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে শূন্যজন। প্রতিটি বিদ্যালয়ের পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।

 

এমন ফলাফলে বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান, শিক্ষক উপস্থিতি, একাডেমিক ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এরই মধ্যে ফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের শোকজ করেছে জেলা শিক্ষা বিভাগ।

 

ঠাকুরগাঁও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন আকতার বলেন, পাঁচটি বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের ডেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে ফল বিপর্যয়ের কারণ লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়গুলোর ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এর আগে, গত বছর ঠাকুরগাঁওয়ের দুটি বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করায় সেসব প্রতিষ্ঠানে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। তাঁর দাবি, এবার ওই দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাস করেছে। এবার শূন্য পাস করা পাঁচ বিদ্যালয় নিয়েও একইভাবে কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল হক বলেন, পাঁচটি বিদ্যালয়ে একজনও পাস না করার বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক ছিলেন কি না, প্রধান শিক্ষকের পদে কোনো ঘাটতি ছিল কি না এবং বিদ্যালয়ের পরিচালনা ব্যবস্থায় কোনো সমস্যা ছিল কি না এসব বিষয় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে খোঁজ নেওয়া হবে। কোথাও গাফিলতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, শূন্য পাস করা বিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে বসে তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে। শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করে আগামী বছর ফলাফল ভালো করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

এদিকে, জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ঠাকুরগাঁও জেলায় মোট ১৭ হাজার ৬৮৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৯ হাজার ৮৮৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৪৬৪ জন। জেলায় এবার মোট পাসের হার ৫৫ দশমিক ৯০ শতাংশ।

 

জেলার সামগ্রিক ফলাফলের পাশাপাশি পাঁচটি বিদ্যালয়ের এমন শূন্য পাসের ফলাফল শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। শোকজের জবাব পাওয়ার পর এসব বিদ্যালয়ের ফল বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন