ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। সমালোচনার মুখে পড়ে গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত তিনি সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসলেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে সর্বমিত্র বলেন, শিক্ষার্থীদের চাপে নয়, বরং তাদের অনুরোধ ও মতামতের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা চাচ্ছেন না আমি পদত্যাগ করি। তারা এটাকে গণবিরোধী বলছেন। এভাবে পদত্যাগ করলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে।
তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীরা তাকে বিরোধীপক্ষের কথায় কান না দিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি ডাকসুর গঠনতন্ত্রেও পদত্যাগের বিষয়টি সমর্থিত নয় বলে দাবি করেন সর্বমিত্র। তবে গঠনতন্ত্রের কোন ধারায় পদত্যাগ সমর্থিত নয়,এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিষয়টি তার স্পষ্ট জানা নেই।
ডাকসুর গঠনতন্ত্রে দেখা যায় ১২ (খ) ধারায় বলা হয়েছে, কার্যনির্বাহী কমিটির কোনো সদস্য পদত্যাগ করলে বা অপসারিত হলে শূন্য পদে প্রচলিত নির্বাচন পদ্ধতিতে নতুন সদস্য নির্বাচন করা হবে।
গত বছরের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হন সর্বমিত্র চাকমা। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন ঘটনায় বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।
সবশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে আসা একদল কিশোরকে কান ধরে উঠবস করানোর দুইটি ভিডিও ছড়িয়ে পরলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। যদিও সেদিন তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি।
পরদিন গণমাধ্যমকে তিনি জানান, কিছু কাজ ‘পেন্ডিং’ থাকায় দুই দিন পর পদত্যাগ করবেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও শনিবার তিনি জানান, পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে তিনি সরে এসেছেন।
এর আগেও গত নভেম্বরে গভীর রাতে ক্যাম্পাসে অবৈধ দোকান উচ্ছেদের সময় এক বৃদ্ধকে লাঠি হাতে শাসানোর অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। চলতি মাসে ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজির অভিযোগ ঘিরে ছাত্রদল ও বাগছাস (বর্তমান জাতীয় ছাত্রশক্তি) নেতাদের সঙ্গে তার বিবাদেও জড়ানোর ঘটনা ঘটে।
এই ধারাবাহিক ঘটনায় সর্বমিত্র চাকমার ভূমিকা নিয়ে ক্যাম্পাসে নানা আলোচনা ও সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।ডাকসু থেকে পদত্যাগ করছেন না সর্বমিত্র
ডিবিসি/এএমটি