জেলার সংবাদ

ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত, সেই মাদ্রাসাশিক্ষকই নবজাতকের বাবা

নেত্রকোণা প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৭ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে মামলার অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরকে শনাক্ত করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল কবীর রুবেল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

তিনি জানান, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষককে নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করার পাশাপাশি পরীক্ষার প্রতিবেদনও উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মামলাটির বিচারকাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

 

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর শিশুটি নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। তার মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।

 

শিশুটি অসুস্থ বোধ করলে এবং তার শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি মায়ের নজরে আসে। গত ১৮ এপ্রিল মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানোর পর চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা।

 

এ ঘটনায় গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র‍্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

 

শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ বিবেচনায় গত ১২ মে আদালতের নির্দেশে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে গত ২ জুলাই সে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়।

 

নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য গত ৯ জুলাই আদালতে আবেদন করে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিলেটের ওই সেফ হোমে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

 

পরীক্ষার প্রতিবেদনে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরকেই নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

 

মানবাধিকারকর্মী কোহিনূর বেগম বলেন, ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযুক্ত ব্যক্তি নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে শনাক্ত হওয়ায় এখন দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। ৬০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে তা সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি এবং এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।

 

রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।

 

ডিবিসি/এমএনকে
 

আরও পড়ুন