রাঙামাটির পরিচিত সাংবাদিক ও ডিবিসি নিউজের জেলা প্রতিনিধি সৈকত রঞ্জন চৌধুরী এবং ছাত্রদল রাঙামাটি জেলা সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আলী আকবর সুমনকে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাঙামাটি জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে থেকে তাদের আটক করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাদেরকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পার্বত্য অঞ্চলে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, শাহবাগ থানায় দায়েরকৃত এই মামলার বাদী চন্দ্রা চাকমা (৩২)। এজাহারে নিজেকে ঢাকা ধানমন্ডির ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির এমবিএ-র শিক্ষার্থী হিসেবে দাবি করেছেন।
তার অভিযোগ, গত ২৯ জুলাই তিনি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় থাকাকালে জানতে পারেন , তার পরিচিত এক ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপে ২ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের একটি আপত্তিকর ভিডিও পাঠানো হয়েছে। বাদী দাবি করেন, অন্য এক নারীর অশ্লীল ভিডিওতে এডিটিংয়ের মাধ্যমে তার মুখমণ্ডল যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তার সামাজিক ও ব্যক্তিমর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে।
এ ঘটনার পরিপ্রক্ষেতে ৩০ জুলাই শাহবাগ থানায় মো. আলী আকবর সুমনকে প্রধান আসামি করে এবং বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার পর ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ গত ১১ আগস্ট রাঙামাটি থেকে প্রথম আসামি সুমনকে গ্রেপ্তার করে।
ডিবির দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাসাবাদে সুমন জানান যে ভিডিওটি সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরী তার কাছে সরবরাহ করেছিলেন। এর ভিত্তিতেই একই দিন বিকেলে জেলা পরিষদ চত্বর থেকেই সাংবাদিক সৈকতকে আটক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে ডিজিটাল আলামত হিসেবে মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
তবে এ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশ্ন ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাঙামাটিতে জেলায় কর্মরত সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন করেছে।
সাংবাদিক সৈকতের সহকর্মী ও স্থানীয় অধিবাসীদের দাবি, সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরী কোনো ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেননি কিংবা ভাইরাল করেননি।
পেশাগত কাজের সূত্রে বা কোনো তথ্যের আদান-প্রদানে তিনি বিষয়টির মুখোমুখি হয়ে থাকতে পারেন, কিন্তু তাকে মূল অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে হুট করে আটক করা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের নামান্তর।
এদিকে এ ঘটনার পর মামলার বাদী চন্দ্রা চাকমার পরিচয় ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও নানা মুখরোচক আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি আগে থেকেই আলোচিত ছিলেন এবং তার নির্দিষ্ট অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। চন্দ্রা চাকমার বাড়ি লংগদুতে হলেও বর্তমানে রাঙামাটি শহরে রাজদ্বীপ চক্র পাড়ায় থাকেন।
পেশাদার একজন সাংবাদিককে এভাবে তড়িঘড়ি গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে রাঙামাটিতে কর্মরত সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন। তারা অবিলম্বে সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর নিঃশর্ত মুক্তি এবং পুরো ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে আসামিরা আদালত প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছেন এবং মামলাটির বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
ডিবিসি/এসডব্লিউএন