ডিবিসি নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর বদলে গেছে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কচুয়া গ্রামের আয়েশা আক্তারের জীবন। দীর্ঘদিনের কঠোর সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে অবশেষে একটি সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে তার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা আয়েশার কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় গাইবান্ধার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে চাকরি পেয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩০ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন আয়েশা।
জন্ম থেকেই দুটি হাত নেই আয়েশার। তবে এই শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনোই তার পথচলার বাধা হতে পারেনি। ছোটবেলা থেকেই মানুষের অবহেলা, করুণা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন তিনি। এর মধ্যেই হারিয়েছেন তার দরিদ্র কৃষক বাবাকে। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়। মায়ের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা ছিল, তার অবর্তমানে মেয়ের ভবিষ্যৎ কী হবে।
তবে প্রতিকূলতার কাছে কখনো হার মানেননি আয়েশা। পায়ের আঙুল দিয়েই রান্নাবান্না, ঘরের কাজ, মোবাইল ও কম্পিউটার ব্যবহার থেকে শুরু করে প্রয়োজন হলে ইট ভাঙার মতো কঠিন কাজও অনায়াসে করতে পারেন তিনি।
তার শিক্ষাজীবনেও ছিল একই রকম অনন্য অধ্যবসায়। পায়ের আঙুলে কলম ধরে লিখে ২০১২ সালে এসএসসি এবং ২০১৪ সালে এইচএসসি পাস করেন তিনি। পরবর্তীতে গাইবান্ধা সরকারি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
আয়েশার একমাত্র স্বপ্ন ছিল একটি সম্মানজনক চাকরি, যেখানে নিজের যোগ্যতায় স্বাবলম্বী হয়ে মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে পারবেন। ডিবিসি নিউজে তার সংগ্রামের গল্প প্রকাশের পর সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিল।
নতুন চাকরি পেয়ে ডিবিসি নিউজের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আয়েশা। তার এই অর্জন শুধু একজন তরুণীর চাকরি পাওয়ার গল্প নয়; বরং অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর অধ্যবসায় এবং সমাজের ইতিবাচক উদ্যোগ একসঙ্গে মিললে যে যেকোনো অসাধ্য সাধন করা সম্ভব-এটি তারই এক অনন্য ও অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত।
ডিবিসি/এসএফএল