জাতীয়

ডেঙ্গু মোকাবিলায় দেশজুড়ে ‘চিরুনি অভিযান’, হাসপাতাল-টেস্টে ছাড়

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রকোপ থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে দেশজুড়ে চিরুনি অভিযান, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং চিকিৎসার বিশেষ প্রটোকলসহ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার। মঙ্গলবার (২ জুন) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সিটি করপোরেশন, বেসরকারি হাসপাতাল মালিক ও চিকিৎসকদের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান। বৈঠকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং উপদেষ্টা ড. জিয়া হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে এবার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, পরিত্যক্ত বাথরুমের কমোড, গ্যারেজ, বাড়ির ছাদ, ক্যানেল ও মজা পুকুরে জমে থাকা পানিতে মশার লার্ভা ধ্বংসে ‘নোভালিয়ুরন’ (Novaluron) নামক বিশেষ ট্যাবলেট এবং স্প্রে ব্যবহার করা হবে। জল ও স্থল উভয় স্থানেই এই কার্যক্রম চলবে। এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে বা বাড়িগুলোতে মশার লার্ভা পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি চালিয়ে জরিমানার ব্যবস্থা করা হবে।

 

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলো ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মোট সিটের ১০ শতাংশ বরাদ্দ রাখবে, যেখানে রোগীদের কোনো চিকিৎসক ফি বা বেড চার্জ দিতে হবে না; তাদের কেবল ওষুধ ও খাবারের খরচ বহন করতে হবে। এছাড়া ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সব ডেঙ্গু রোগীর ল্যাব টেস্টে ৮০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে।

 

রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের জন্য নিজস্ব অর্থায়নে ১ লাখ প্রটোকল বুক (চিকিৎসা নির্দেশিকা) প্রকাশ করেছে সোসাইটি অব প্রাইভেট মেডিসিন। আগামী শনিবার ঢাকা থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে এক সপ্তাহের মধ্যে ৬৪টি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ইউনিসেফ ও সরকারের যৌথ অর্থায়নে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

 

অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে সার্বজনীন স্বীকৃতি না থাকায় এখনই দেশে ডেঙ্গু ভ্যাকসিন প্রয়োগ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক মহলে সম্পূর্ণ নিরাপদ প্রমাণিত হলেই কেবল ভবিষ্যতে এটি বিবেচনা করা হবে। তবে দেশীয় গবেষণাকে কাজে লাগাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ডেঙ্গু গবেষকের পরামর্শ গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। এছাড়া জনসচেতনতা বাড়াতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর স্পন্সর করা বিভিন্ন টেলিভিশন প্রোগ্রামে অন্তত ৩০ সেকেন্ডের ডেঙ্গু সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অতীতের যেকোনো দুর্যোগের মতোই এবারও ডেঙ্গু মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন