বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে ফ্রান্স। এই হারের মাধ্যমে বর্তমান ব্যালন ডি’অরজয়ী ফরাসি তারকা ওসমান ডেম্বেলের একটি ঐতিহাসিক কীর্তি গড়ার স্বপ্ন ভেঙে গেছে। বিশ্বকাপে তথাকথিত ‘ব্যালন ডি’অর অভিশাপ’ ভাঙতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।
ইতিহাস বলছে, যে ফুটবলার বিশ্বকাপের ঠিক আগের বছর মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার জেতেন, তিনি কখনোই পরের বছর অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে নিজের দলকে শিরোপা জেতাতে পারেন না। ডেম্বেলে ছিলেন সেই দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটানোর অন্যতম বড় দাবিদার, তবে সেমিফাইনাল থেকে ফ্রান্সের বিদায়ে সেই অভিশাপ অটুটই রয়ে গেল।
ডেম্বেলে এখন ফুটবল ইতিহাসের তৃতীয় বর্তমান ব্যালন ডি’অরজয়ী, যিনি বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিলেন। এর আগে ১৯৬৬ সালে পর্তুগালের ইউসেবিও এবং ১৯৮৬ সালে ফ্রান্সের মিশেল প্লাতিনিও ঠিক একই পরিণতির শিকার হয়েছিলেন। অন্যদিকে, জিয়ান্নি রিভেরা (১৯৭০), ইয়োহান ক্রুইফ (১৯৭৪), কার্ল-হাইনৎস রুমেনিগে (১৯৮২), রবার্তো বাজ্জিও (১৯৯৪) এবং রোনালদো (১৯৯৮) বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলেও শিরোপা জিততে ব্যর্থ হন। এর মধ্যে ১৯৯৭ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো ১৯৯৮ বিশ্বকাপে দলকে ফাইনালে তুললেও ফ্রান্সের কাছে ৩-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছিলেন।
বিশ্বকাপে বর্তমান ব্যালন ডি’অরজয়ীদের পারফরম্যান্সের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, অনেকেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাননি বা মূল আসরে খেলতেই পারেননি। ১৯৫৮ সালে স্পেনের আলফ্রেদো দি স্তেফানো ও ১৯৭৮ সালে ডেনমার্কের অ্যালান সিমনসেনের দল বিশ্বকাপে যোগ্যতাই অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে ২০২২ সালে ফ্রান্সের করিম বেনজেমা চোটের কারণে ছিটকে যান। ১৯৬২ সালে ইতালির ওমার সিভোরি এবং ২০১৪ সালে পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বিদায় নেন প্রথম রাউন্ড বা গ্রুপ পর্ব থেকেই। ১৯৯০ সালে নেদারল্যান্ডসের মার্কো ফন বাস্তেন এবং ২০১৮ সালে রোনালদো শেষ ষোলো থেকে বাদ পড়েন। এছাড়া ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের মাইকেল ওয়েন, ২০০৬ সালে ব্রাজিলের রোনালদিনহো এবং ২০১০ সালে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ যাত্রা থেমে যায় কোয়ার্টার-ফাইনালেই।
২০২৬ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল থেকে ডেম্বেলের এই বিদায়ের মাধ্যমে আরও একবার প্রমাণিত হলো যে, ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সম্মান জয়ের পরের বিশ্বকাপে দলকে শিরোপা এনে দেওয়া এখনও ব্যালন ডি’অরজয়ীদের জন্য এক অধরা কীর্তি হয়েই আছে।
ডিবিসি/এফএইচআর