বাংলাদেশ, রাজধানী

ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

৭ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

রাজধানীর বসুন্ধরা ও উত্তরা এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে একটি আন্তর্জাতিক টেলিগ্রাম প্রতারক চক্রের সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ চীনা নাগরিক এবং ৩ বাংলাদেশিসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

অভিযানে তাদের হেফাজত থেকে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ৫১ হাজার ২৫১টি সিম কার্ড, ৫১টি মোবাইল ফোন, ২১টি অবৈধ ভিওআইপি (VoIP) গেটওয়ে এবং বিপুল পরিমাণ প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

 

গ্রেপ্তারকৃত আটজন হলেন চীনা নাগরিক চেন লিং ফেং, জেং কং, জেং চাংকিয়াং, ওয়েন জিয়ান কিউ, হুয়াং ঝেং জিয়াং এবং বাংলাদেশি সহযোগী মো. জাকারিয়া, নিয়াজ মাসুম ও কামরুল হাসান ওরফে হাসান জয়।

 

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার।

 

ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনায় ডিসি নাসের রিকাবদার জানান, একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে গোয়েন্দারা রাজধানীতে সক্রিয় দেশি-বিদেশি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সন্ধান পান। চক্রটির সদস্যদের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পর গত ৭ জানুয়ারি রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় প্রথম অভিযানটি চালানো হয়। সেখান থেকে প্রতারণার সঙ্গে সরাসরি জড়িত বাংলাদেশি নাগরিক নিয়াজ মাসুম ও কামরুল হাসান ওরফে হাসান জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় তাদের আস্তানা থেকে অনলাইনে প্রতারণায় ব্যবহৃত ১৪টি ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, বিভিন্ন অপারেটরের ৫১ হাজার ৬৭টি সিম, চারটি মোবাইল ফোন, দুটি সিপিইউ এবং একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।

 

বসুন্ধরা অভিযানের সূত্র ধরে ও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও এই চক্রের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় অভিযান চালায় ডিবি। সেখান থেকে পাঁচজন চীনা নাগরিক এবং তাদের সহযোগী মো. জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। উত্তরা থেকে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত আরও সাতটি অবৈধ ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৪৭টি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন অপারেটরের ১৮৪টি সিম এবং পাঁচটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।

 

পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা মূলত টেলিগ্রাম অ্যাপ ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করত। তাদের প্রতারণার কৌশলগুলোর মধ্যে ছিল কখনও ভুয়া চাকরি দেয়ার নাম করে, কখনও অধিক মুনাফায় ভুয়া বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে, আবার কখনও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বা পণ্য সস্তায় সরবরাহের চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার করে মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া। উদ্ধারকৃত ভিওআইপি সরঞ্জাম ও বিপুল সংখ্যক সিম কার্ড এসব অবৈধ কার্যক্রমে ব্যবহার করা হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন