জেলার সংবাদ

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে শত কিলোমিটার যানজট!

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, যমুনা সেতুর ওপর একাধিক গাড়ি বিকল, সড়ক দুর্ঘটনা এবং বৃষ্টির কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়‌কের প্রায় শত কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে যাওয়া ঘরমুখো যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত ১০টা থেকে এই মহাসড়কের গাজীপুর ও সাভার অঞ্চল থেকে শুরু করে যমুনা সেতুর পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত ক্ষণে ক্ষণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজটের কারণে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি গতকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির কারণে খোলা ট্রাক ও পিকআপে যাতায়াতকারী ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীদের অবর্ণনীয় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

 

পুলিশ ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাতভর গাজীপুরের চন্দ্রা ও ঢাকার সাভার এলাকায় তীব্র যানজট ছিল, যার প্রভাব পড়েছে টাঙ্গাইল অংশে। মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হওয়ায় পুরো মহাসড়ক জুড়েই ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে।

 

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে ৫৬ হাজার ২৩৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। উত্তরবঙ্গের যাত্রীদের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে ক্ষণে ক্ষণে পুরো সেতু দিয়ে একমুখী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। তবে গত রাত ১২টা থেকে এখন পর্যন্ত সেতুর ওপর ৫টি গাড়ি বিকল ও দুটি দুর্ঘটনার কারণে যানজট ও ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

 

মহাসড়কে আটকে থাকা অধিকাংশ যাত্রীর অভিযোগ, এই শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে যমুনা সেতু পার হতে তাদের ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে। নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য এই দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কষ্ট অবর্ণনীয়। যাত্রীরা প্রতি বছর এমন চরম ভোগান্তির স্থায়ী সমাধান দাবি করেছেন।

 

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, বৃষ্টি, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং সেতুর ওপর একাধিক গাড়ি বিকল ও দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে জটলার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, চার লেনের মহাসড়ক থেকে যানবাহন যখন দুই লেনের সেতুতে প্রবেশ করে, তখনই মূলত প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয় এবং স্বাভাবিক গতি নষ্ট হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ, অতিবৃষ্টি, যানবাহন বিকল, দুর্ঘটনা এবং চালকদের বিশৃঙ্খল যান চালানো। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে পুলিশ মহাসড়কে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 


ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন