ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে নারী হেনস্তার অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে দলবেঁধে বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের একদল নারী শিক্ষার্থী। রবিবার (২৮ জুন) সকালে আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচ উপলক্ষে তারা হল মাঠে উপস্থিত হন। এ সময় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।
এর আগে শনিবার (২৭ জুন) রাতে কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের ভিপি সানজানা চৌধুরী রাত্রী এই প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। আয়োজকদের ভাষ্য, ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের অবাধ ও নিরাপদ উপস্থিতির বার্তা দিতেই প্রতিবাদস্বরূপ এ আয়োজন করা হয়েছে।
খেলা শেষে সানজানা চৌধুরী রাত্রী বলেন, শুক্রবার রাতে বিশ্বকাপের ফ্রান্স-নরওয়ে ম্যাচ দেখতে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের এক সাবেক শিক্ষার্থী তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে শহীদুল্লাহ হলে যান। অভিযোগ রয়েছে, নারী সঙ্গী থাকায় হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক সাজু মিয়া ও তাঁর সহযোগীরা ওই দম্পতির কাছে একাধিক প্রশ্ন করেন এবং এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন, যাতে তারা খেলা না দেখেই হল ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন।
তিনি আরও বলেন, নারীর প্রতি এমন বৈষম্যমূলক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে নারী শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে মাঠে এসে খেলা দেখেছেন। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে প্রক্টর অফিসে স্মারকলিপি দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এরপর সকাল ১১টায় প্রক্টর কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।সেখানে তিনটি দাবি উপস্থাপন করেন। শিক্ষার্থীদের তিন দাবি হলো–নারী হেনস্তার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া, ক্যাম্পাসে নারী হয়রানি, অনলাইন হেনস্তা, গোপনে ভিডিও ধারণ এবং মব সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক ও আবাসিক পরিসরে নারীদের প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করে বা তাদের চলাচল ও অংশগ্রহণকে সংকুচিত করে, এমন যেকোনো আচরণ বা সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকা।
এদিকে কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্নজন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান তাঁর ফেসবুক পোস্টে এটিকে নারী হেনস্তার প্রতিবাদ হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব রিফাত রশিদ লেখেন, নারী অধিকার প্রশ্নে বিভিন্ন মত ও সংগঠনের শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে অবস্থান নেওয়া ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
ডিবিসি/এফএইচআর