বাংলাদেশ, শিক্ষা

ঢাবিতে শেখ পরিবারের ৫ স্থাপনার নাম পরিবর্তন না করায় সিনেটে ওয়াকআউট

ঢাবি প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের নামে থাকা ৫টি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না করে পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর প্রতিবাদে সিনেট অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ৫ সিনেট সদস্য।

সোমবার (২৯ জুন) রাত সোয়া ১০টার দিকে সিনেট অধিবেশন চলাকালে এই ওয়াকআউটের ঘটনা ঘটে। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম তাদের ওয়াকআউট না করার অনুরোধ জানান।


ওয়াকআউট করা ডাকসুর সিনেট প্রতিনিধিরা হলেন-ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ এবং সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না।


জানা যায়, ডাকসু ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে গত ৮ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পরিষদ ‘সিন্ডিকেট’-এর সভায় শেখ পরিবারের নামে থাকা ৫টি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের বিষয়টি সিনেটে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। স্থাপনাগুলো হলো- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, শেখ রাসেল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার, ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির শহীদ অ্যাথলেট সুলতানা কামাল হোস্টেল।


সোমবার রাতে সিনেট অধিবেশনে সাড়ে ৯টার দিকে বিষয়টি এজেন্ডা হিসেবে উত্থাপন করেন উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এরপর সিনেট সদস্যরা এ বিষয়ে তাদের নিজ নিজ বক্তব্য উপস্থাপন করেন।


আলোচনায় অংশ নিয়ে সিনেট সদস্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বিষয়টিতে যথাযথ প্রক্রিয়া (প্রসিডিউর) বজায় রাখার দাবি জানিয়ে এটি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর প্রস্তাব করেন। অন্যদিকে, সিনেট সদস্য অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা নাম পরিবর্তনের ব্যাপারে আপত্তি জানান।


এ সময় ডাকসুর সিনেট প্রতিনিধিরা যুক্তিসঙ্গত কারণ দর্শিয়ে বলেন, শেখ পরিবারের নামে স্থাপনা থাকায় শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। শেখ মুজিবুর রহমান হলের ব্যানার নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এমনকি এই নামের কারণে হলের বিভিন্ন ক্লাব পরিচালনার জন্য কোনো স্পনসরও পাওয়া যাচ্ছে না বলে হলের শিক্ষকরা জানিয়েছেন। ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ দাবি করেন, নাম পরিবর্তনের বিষয়টি যদি সিন্ডিকেটে পুনরায় পাঠাতেই হয়, তবে একটি নির্দিষ্ট ফিডব্যাকসহ পাঠাতে হবে।


ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর সরকার শেখ পরিবারের নামে থাকা আট শতাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করেছে। সুতরাং নাম পরিবর্তনের স্পষ্ট দৃষ্টান্ত রয়েছে। এই স্থাপনাগুলোর নাম পরিবর্তন করে বীরশ্রেষ্ঠ কিংবা দেশের অন্যান্য বরণীয় ব্যক্তিত্বদের নামে নামকরণ বিবেচনা করা যেতে পারে।


অধিবেশনে সিনেট সদস্য ও গাজীপুর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে নামকরণের দাবি জানান।


দীর্ঘ আলোচনা শেষে উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বিষয়টি চূড়ান্ত না করে পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর নির্দেশ দেন। উপাচার্যের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই ডাকসু প্রতিনিধিরা অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন।


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন