জাতীয়

ঢাবির তিন শিক্ষক ও এক কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত, চার শিক্ষককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

ঢাবি প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৫ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক ও একজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

একই সঙ্গে পৃথক অভিযোগে চার শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগ এবং ‘হেকেপ’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রম পর্যালোচনায় দুটি পৃথক কমিটিও গঠন করা হয়েছে।


গত ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আজ (৩০ জুলাই) জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অধিদপ্তর। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।


জনসংযোগ অধিদপ্তরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণ, নৈতিক স্খলনসহ বিভিন্ন অভিযোগে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।


এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এবং তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলীকেও সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


অন্যদিকে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী কার্যক্রম, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারবিরোধী অপপ্রচার, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ এবং হুমকি প্রদানের অভিযোগে ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিতকে বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে।


একই অভিযোগে ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সারা শামসুর রউফ এবং শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলামকে (রফিক শাহরিয়ার) সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।


এ ছাড়া বিভাগের বিভিন্ন অনিয়ম এবং এমফিল ও পিএইচডি থিসিসে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনকেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।


সিন্ডিকেট সভায় ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যাচাইয়ের জন্য প্রো-উপাচার্যের (শিক্ষা) নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের ডিন এ কমিটির সদস্য থাকবেন।


একই সময়কালে বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অর্থায়নে পরিচালিত ‘হেকেপ’ প্রকল্পের আওতায় গবেষণা কার্যক্রম এবং প্রকল্পের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা পর্যালোচনার জন্য প্রো-উপাচার্যের (প্রশাসন) নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।


সভায় জুলাইয়ের চেতনা-বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংগঠনের বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।


এ ছাড়া অফিস শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে (সিভিল) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।


সিন্ডিকেট সভায় প্রশাসনিক ভবনসংলগ্ন মলচত্বরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ আগস্ট স্মৃতিস্তম্ভটির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হবে।

 

ডিবিসি/ এসভিএন
 

আরও পড়ুন