বাংলাদেশ, রাজনীতি

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উত্থান ও পতনের তিন দশকের ইতিহাস

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

বৃহঃস্পতিবার ২০শে নভেম্বর ২০২৫ ০৩:০১:৪৪ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

বাংলাদেশের ভোটের রাজনীতি ও ক্ষমতার পালাবদলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা একটি অত্যন্ত আলোচিত অধ্যায়। ১৯৯১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু ঘটনা-অঘটন এবং রক্তঝরা ইতিহাস। আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক দাবির মুখে সংবিধানে বারবার যুক্ত ও বাতিল হওয়ার পর অবশেষে আবারও ফিরে এসেছে এই ব্যবস্থা।

স্বাধীন বাংলাদেশে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এই বাস্তবতায় ১৯৯০ সালে সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পতনের পর, ১৯৯১ সালে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত সেই প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে জয়লাভ করে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি।

 

তবে ১৯৯৪ সালে মাগুরা উপনির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ উঠলে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে পুনরায় সংশয় দেখা দেয়। তখন সংসদে বিরোধী দল আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সংবিধানের অংশ করার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। দাবির মুখে ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই ব্যবস্থাকে সাংবিধানিক রূপ দেয়া হয়। বিধান অনুযায়ী, নির্বাচিত সরকারের মেয়াদ শেষে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করবে।

 

এই কাঠামোর অধীনে ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন, তা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। বিচারপতি কেএম হাসানের বিএনপি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা রাজপথে সহিংস আন্দোলন শুরু করে। সংঘাতময় পরিস্থিতির একপর্যায়ে ড. ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে বহুল আলোচিত ওয়ান-ইলেভেনের সরকার গঠিত হয়, যাকে অনেকে সেনা সমর্থিত সরকার বলে থাকেন।

 

এই সরকারের আমলে শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়াসহ অনেক রাজনীতিককে কারাবন্দি করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু ২০১১ সালের ১০ই মে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করেন। সেই রায়ের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করে দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। বর্তমানে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক সেই রায়ের দায়ে কারাগারে রয়েছেন।

 

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তির পর ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

 

ডিবিসি/এমইউএ

আরও পড়ুন