চীনের জনপ্রিয় ফ্যান্টাসি উপন্যাসের ‘উড়ন্ত তলোয়ার’ বা ফ্লাইং সোর্ডকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন ফ্যান শিসান নামের এক তরুণ। চীনের সিচুয়ান প্রদেশের এই ইনফ্লুয়েন্সার সম্প্রতি তলোয়ার আকৃতির একটি উড়ন্ত যান তৈরি করেছেন। কালো পোশাকে একজন ফ্যান্টাসি বীরের মতো সেই উড়ন্ত তলোয়ারে চড়ে আকাশে ওড়ার একটি ভিডিও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন, যা এরই মধ্যে ৩৩ লাখ ভিউ এবং ২ লাখ ৮৪ হাজার লাইক পেয়েছে।
নব্বইয়ের দশকে জন্ম নেওয়া ফ্যান ছোটবেলা থেকেই ‘শিয়ানশিয়া’ (চীনা পৌরাণিক ফ্যান্টাসি) এবং ‘উশিয়া’ (মার্শাল আর্ট নির্ভর ফ্যান্টাসি) ড্রামার ভক্ত ছিলেন। বিশেষ করে ২০০৫ সালের জনপ্রিয় ড্রামা ‘চাইনিজ প্যালাডিন’ এবং ‘দ্য রিটার্ন অব দ্য কনডর হিরোস’ তাকে ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করে।
ফ্যান মূলত একজন সাবেক হোটেলকর্মী। ২০২০ সালে কোভিড মহামারির সময় হোটেলের নির্দেশে বাড়তি আয়ের জন্য তিনি ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে চাকরি হারালে তিনি ভিডিও এডিটিং শিখে তলোয়ারবাজির নানা কৌশল নিয়ে কাজ শুরু করেন। নিজের শেখা পদার্থ ও রসায়নবিদ্যা কাজে লাগিয়ে কোনো ভিএফএক্স (ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস) ছাড়াই তিনি ফ্যান্টাসি ড্রামার মতো আগুন, বরফ ও বজ্রপাতের তলোয়ার তৈরি করে তাক লাগিয়ে দেন।
ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে আয়ের জমানো অর্থ দিয়ে ২০২৪ সালে তিনি ‘উইন্ড অ্যান্ড ক্লাউড’ সিরিজের বিখ্যাত দৃশ্য ‘রিটার্ন অব দ্য টেন থাউজেন্ড সোর্ডস’-এর বাস্তব রূপ দেন। প্রথমে তার ও মোশন সেন্সর দিয়ে এবং পরে গত বছর ড্রোনের সাহায্যে এই প্রজেক্টটি সম্পন্ন করেন তিনি। তার এই কাজের প্রশংসা করেছিলেন খোদ চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং।
ফ্যানের সর্বশেষ আবিষ্কার এই ‘ফ্লাইং সোর্ড’টি গত ১৮ মাসের অসংখ্য ব্যর্থতার পর সফলতার মুখ দেখেছে। ৪.৬ মিটার দীর্ঘ ও ১০০ কেজি ওজনের এই যানটি সর্বোচ্চ ৭০ কেজি ওজনের একজন মানুষকে বহন করতে সক্ষম। প্রপেলারের সাহায্যে ওড়া এই যানটি রিমোট বা তলোয়ার আকৃতির একটি লিভার দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। শুরুতে ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হলেও, বর্তমানে এটি মাটি থেকে ২ মিটার উঁচুতে টানা তিন মিনিট উড়তে পারে।
ফ্যান জানিয়েছেন, তার এই যানটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে নিজের ছোটবেলার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে পেরেই তিনি আনন্দিত। ভবিষ্যতে লিভার ছাড়াই কেবল শারীরিক অঙ্গভঙ্গির সাহায্যে এই তলোয়ার নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা রয়েছে তার। ফ্যানের এই উদ্ভাবনী চেষ্টার প্রশংসা করে নেটিজেনরা বলছেন, তিনি ছোটবেলার ফ্যান্টাসিকে বাস্তবে নিয়ে এসেছেন। প্রযুক্তির চেয়েও তার এই অদম্য কল্পনাশক্তির বাস্তবায়নকে বড় করে দেখছেন অনেকে।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
ডিবিসি/এফএইচআর